সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় পরিচালিত যৌথবাহিনীর অভিযানে উল্লেখযোগ্য কোনো শীর্ষ অপরাধীকে আটক করা না গেলেও এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃঢ় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে ওই এলাকায় অপরাধীদের লুকিয়ে থাকার কোনো সুযোগ থাকবে না।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নগরের খুলশীতে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ডিআইজি জানান, সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে যৌথবাহিনীর অভিযানে দেশী-বিদেশী বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে এবং ২২ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তিনি বলেন, অভিযানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ, রর্‌্যাব, বিজিবি ও এপিবিএনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মোট ৩ হাজার ১৮৩ জন সদস্য অংশ নেন। পাশাপাশি সাতজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযান কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করেন। অভিযানে তিনটি হেলিকপ্টার, ১৫টি এপিসি, র‌্যাব ও সিএমপির তিনটি ডগ স্কোয়াড এবং ১২টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়। আধুনিক প্রযুক্তি ও বিশেষ কৌশল প্রয়োগ করে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় একযোগে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হয়।

ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ জানান, অভিযানের সময় সন্দেহভাজন আস্তানা, ঝুঁকিপূর্ণ বসতি, পাহাড়ি পথ, গোপন স্থাপনা ও সম্ভাব্য অপরাধীদের অবস্থানস্থলে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র, ২৭টি পাইপগান, ৩০টি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ৫৭টি অস্ত্র তৈরির পাইপ, ৬১টি কার্তুজ, বিভিন্ন ধরনের এক হাজার ১১৩ রাউন্ড গুলী এবং ১১টি ককটেল উদ্ধার করা হয়। এছাড়া পাইপগান তৈরির লেদ মেশিনসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, অভিযানে ১৯টি সিসি ক্যামেরা, একটি থ্রি-ডি ডিভিআর, একটি পাওয়ার বক্স এবং দুটি বাইনোকুলারও উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এসব সরঞ্জাম অপরাধীদের নজরদারি কার্যক্রমে ব্যবহৃত হতো।

ডিআইজি বলেন, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেখানে দুটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। নিয়মিত অভিযান, চেকপোস্ট ও টহলের মাধ্যমে পুরো এলাকাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে ক্যাম্পের সংখ্যা আরও বাড়ানো হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম পরিচালনায় কিছুটা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এলাকার কিছু সুবিধাভোগী ব্যক্তি ও ভূমিদস্যুদের সহায়তায় সন্ত্রাসীরা সেখানে অবস্থান করছিল।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে উল্লেখ করে ডিআইজি বলেন, সেখানে বসবাসকারী মানুষের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হবে। প্রয়োজন হলে তাদের পুনর্বাসনের বিষয়ও বিবেচনা করা হতে পারে।