খুলনা মহানগরীর খানজাহান আলী থানাধীন আফিলগেট এলাকায় প্রকাশ্যে শেখ মো. আরিফুজ্জামান সোহেল নামের যুবককে গুলী করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার বিকেল সোয়া ৩টার দিকে এ ঘটনাটি ঘটে। নিহত সোহেল ফুলতলা উপজেলার গিলাতলা শেখপাড়ার মৃত মিজানুর রহমান বাচ্চু শেখের ছেলে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৪টি গুলীর খোসা ও দু’টি বুলেট উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহত সোহেলের বিরুদ্ধে একাধিক হত্যাসহ কয়েকটি মামলা রয়েছে এবং সে পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির নেতা হিসেবে পরিচিত ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

পুলিশের একাধিক সূত্র ও এলাকাবাসী জানান, নিহত সোহেল শেখ আফিল গেট এলাকার বিসমিল¬াহ মটরস নামে একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজের সামনে বেঞ্চের উপর বসে ছিলেন। বিকেল সোয়া ৩টার দিকে খুলনা শহরের দিক থেকে হঠাৎ করে একটি মোটরসাইকেলে হেলমেট পরিহিত দুই যুবক ঘটনাস্থলে এসে সোহেলকে লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণ করে। মাথায় গুলীবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে। অপর দিকে দুর্বৃত্তরা সোহেলের মৃত্যু নিশ্চিত জেনে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে মোটরসাইকেল যোগে পুনরায় শহরের দিকেই পালিয়ে যায়। এদিকে দুর্বৃত্তদের আকস্মিক গোলাগুলির ঘটনায় আশপাশের দোকানদার ও উপস্থিত লোকজন দিক-বিদিক ছুটাছুটি শুরু করে। পরে খবর পেয়ে খানজাহান আলী থানা পুলিশ, ডিবি এবং সিআইডি পুলিশের ফরেনসিক দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। খানজাহান আলী থানার অফিসার ইনচার্জ হাওলাদার সনোয়ার হুসাইন মাসুম বলেন, নিহত সোহেল নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থি দলের সদস্য এবং তার বিরুদ্ধে খুলনা সদর থানায় ও আড়ংঘাটা থানায় পৃথক দু’টি হত্যা মামলা এবং খানজাহান আলী থানায় একটি মারামারি মামলা রয়েছে। যদিও একটি মামলা মিমাংসিত। ঘটনাস্থল থেকে ৪টি গুলীর খোসা ও দু’টি বুলেট উদ্ধার করা হয়েছে। লাশের ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (দৌলতপুর জোন) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, গুলীর খবর শুনে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ছিলাম। পাশের পেট্রোল পাম্পের সিসিটিভি ফুটেজ থেকে দেখতে পাই নীল রঙের একটি মোটরসাইকেলে দু’জন খুলনা শহরের দিক থেকে এসে আবার শহরের দিকে চলে যায়। নিহত সোহেলের মাথায় দুইটি এবং বুকে একটি গুলীর চিহ্ন রয়েছে। নিহত সোহেল পেশায় একজন মৎস্য ব্যবসায়ী ছিলেন। হত্যাকারাীদের গ্রেফতারপূর্বক আইনের আওতায় আনা হবে।