বাগমারা (রাজশাহী) সংবাদদাতা: রাজশাহীর বাগমারায় ওমর ফারুক ওরফে ধলু (৩৯) নামে এক ভ্যানচালককে বর্বর নির্যাতন চালিয়ে হত্যার অভিযোগে মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) রাতে নিহতের বাবা মোসলেম সরদার বাদী হয়ে বাগমারা থানায় এ মামলা করেন। চুরির অভিযোগে মারধর ও সাজার পর কারা হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনার পাচঁ দিন পরে মামলা করা হয়। ফারুক ভবানীগঞ্জ পৌরসভার চানপাড়া মহল্লার মসলেম সরদারের ছেলে। গত ১৭ ডিসেম্বর ভ্যান চালক ফারুককে চুরির অপবাদে তাকে প্রকাশ্যে উলঙ্গ করে দুই ঘণ্টা ধরে লোহার রড দিয়ে পেটানো হয়। সন্ধ্যায় উপজেলা সদরের সিএনজি মালিক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে সদস্যরা মধ্যযুগীয় এই পাশবিকতা চালানোর দাবি করা হয়েছে। নির্যাতনের তার হাত-পায়ে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় লোহার পেরেক দিয়ে নির্যতন করা হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষে অভিযোগ করা হয়। পরে তাকে ‘মাদকের নাটক সাজিয়ে’ ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। শনিবার ভোরে কারা হেফাজতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মামলায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন উপজেলার দেউলা গ্রামের রেজাউল করিম (৪৭), বিপ্লব ওরফে ভুট্ট ড্রাইভার (৩৫), রহিদুল ইসলাম (৪৫), হাবিবুর রহমান (৫৫), মাঝিগ্রামের আবদুল মতিন (৪০), দানগাছি গ্রামের মুকুল হোসেন (৪৪), জুয়েল রানা (৩৫), দরগামাড়িয়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম (৪০), ভবানীগঞ্জের আসাদুল ইসলাম (৩৬), আবদুস সালাম (৪৮), মোজাম্মেল হক (৪২) ও আবদুল হান্নান (৩৮)। আসামিদের মধ্যে তিনজনকে ২৩ ডিসেম্বর দুপুরে আটক করে পুলিশ। মুকুল হোসেনকে থানায় এনে ছেড়ে দেওয়া হলেও অন্য দুজনকে কারাগারে পাঠানো হয়। বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’
গ্রাম-গঞ্জ-শহর
ভ্যান চালককে খুনের অভিযোগ
রাজশাহীর বাগমারায় ওমর ফারুক ওরফে ধলু (৩৯) নামে এক ভ্যানচালককে বর্বর নির্যাতন চালিয়ে হত্যার অভিযোগে মামলা হয়েছে।