সোনারগাঁ সংবাদদাতা : গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার দেশের জনগণ ও নবজাতকদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিনামূল্যে ওষুধ ও সব ধরনের টিকা সরবারহ করে থাকে। ইউনিয়ন পর্যায়ে সেই ওষুধ ও টিকাসমূহের একমাত্র বিতরণ কেন্দ্র হচ্ছে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা কমিউনিটি ক্লিনিক। কিন্তু বেতন বৃদ্ধি ও পে স্কেলের দাবিতে একমাস ধরে সকল স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে উপজেলা ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকর্মীরা। বিপাকে পড়েছে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসা হাজার হাজার বৃদ্ধ, শিশু ও নবজাতক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহীতা। বাড়ছে শিশুদের স্বাস্থ্য ঝুকি।
বাংলাদেশ সরকার ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে (বিনামূল্যে) শিশুদের জন্য ইঈএ (যক্ষ্মা) পেন্টাভ্যালেন্ট (৫ রোগ একসাথে), ঙচঠ (পোলিও মুখে খাওয়ার), ওচঠ (পোলিও- ইনজেকশন), চঈঠ (নিউমোনিয়া), গজ (হাম ও রুবেলা) ও মায়েদের জন্য ঞঞ/ঞফ (টিটেনাস) এবং সাধারণ রোগের ওষুধ হিসেবে প্যারাসিটামল (জ্বর/ব্যথা), ঙজঝ (ওআরএস)Ñ ডায়রিয়া, জিঙ্ক ট্যাবলেট- শিশুদের ডায়রিয়া, ভিটামিন অ ক্যাপসুল (নির্দিষ্ট দিনে),আয়রন + ফলিক এসিড, ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট (গর্ভবতী মা), অ্যামোক্সিসিলিন, কোট্রাইমক্সাজল, মেট্রোনিডাজল, ডিওয়ার্মিং ট্যাবলেট (অষনবহফধুড়ষব), গ্যাস্ট্রিক ও শ্বাসকষ্ট রোগীদের জন্য ওমিপ্রাজল/রেনিটিডিন
স্যালবিউটামল ট্যাবলেট/ইনহেলার (সীমিত) টিকাসমূহ সরবরাহ করে থাকে। তাছাড়া পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রীসমূহ যেমনÑ কনডম, খাওয়ার পিল, ইনজেকটেবল (ডিপো), ইসিপি (জরুরি পিল) ইত্যাদি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সরবরাহ করে থাকে। কিন্তু নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বারদী ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সকাল ১১টায় অনেক স্বাস্থ্য সেবা প্রত্যাশী শিশু, বৃদ্ধ ও গর্ভবতী মায়েরা হাসপাতালে এসে জড়ো হয়েছেন কিন্তু স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে কোন ধরনের স্বাস্থ্য সেবা পাচ্ছে না। স্বাস্থ্যকর্মীরা নিজ নিজ কক্ষে বসে আছে কিন্তু কোন ধরনের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করছে না। প্রশ্ন করলে বলেন, ধর্মঘট চলছে সুতরাং সকল কার্যক্রম বন্ধ এবং স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কোন প্রকারের ওষুধ নাই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বারদী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের স্বাস্থ্যকর্মী শেফালী আক্তার (ঋডই) বলেন, ২০ বছর যাবৎ আমরা কোন পে স্কেল পাচ্ছি না। বেতন বৃদ্ধির কথা বললেও সরকার কর্ণপাত করছে না। তাই বাংলাদেশের সকল স্বাস্থ্যকর্মীরা ধর্মঘট ডেকেছে। তাদের সাথে সহমত পোষণ করে আমরাও আমাদের সকল কার্যক্রম বন্ধ রেখেছি। সরকার যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের দাবি না মানবে আমরা কাজে ফিরছি না।