স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন কার্যক্রম সচল রাখতে দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের তাগিদ দিয়েছেন ডা. শাহাদাত হোসেন। গতকাল রোববার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন-এর সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ আহ্বান জানান।

বৈঠকে মিশনের দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক সুজান জিন্ডেল এবং সহকারী মো. মাসুক হায়দার উপস্থিত ছিলেন। মেয়র বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় উন্নয়ন কর্মকা- ব্যাহত হচ্ছে এবং নগরবাসীর সেবা প্রদান কঠিন হয়ে পড়েছে।

জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে মেয়র দাবি করেন, ২০০১ সালের পর দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি এবং জনগণ দীর্ঘদিন নিজেদের প্রতিনিধি বেছে নেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তিনি বলেন, এর ফলে গণতন্ত্র ও উন্নয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাম্প্রতিক নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে উল্লেখ করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, তারেক রহমান–এর নেতৃত্বে দেশ উন্নয়নের নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। একই সঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া–র অর্থনৈতিক অবদানের কথাও স্মরণ করেন।

স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, বর্তমানে দেশে তিনি একমাত্র দায়িত্বে থাকা নির্বাচিত মেয়র। ২০২১ সালের চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, আদালতের রায়ের মাধ্যমে তিনি মেয়রের দায়িত্ব ফিরে পেয়েছেন। অন্যান্য সিটি করপোরেশনে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির পরিবর্তে প্রশাসক দিয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত কাউন্সিলর না থাকায় নগর পরিচালনায় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটিতে ৪১ জন সাধারণ ও ১৪ জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর থাকার কথা থাকলেও তাদের অনুপস্থিতিতে নগরবাসীর সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় চট্টগ্রামসহ দেশের সব সিটি করপোরেশনে দ্রুত নির্বাচন আয়োজন প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।

অন্যদিকে প্রতিনিধি দলটি জানায়, বাংলাদেশের জাতীয় আইনি কাঠামো এবং আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক মানদ-ের আলোকে সংসদীয় নির্বাচনের মূল্যায়ন করা হয়েছে। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা–এ মিশন তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এবং সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তা তুলে ধরেছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে, যেখানে ভবিষ্যৎ নির্বাচনী ব্যবস্থার উন্নয়নসংক্রান্ত সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।