কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চর জগন্নাথপুর এলাকায় পদ্মার চরজুড়ে বিস্তীর্ণ জমিতে সরিষার ক্ষেত। হলুদের রংয়ে বিস্তীর্ণ মাঠ। এসব সরিষা খেতের মাঝেই তিন মাস আগে বসানো হয় ৬০০টি মৌ বাক্স। মৌমাছির দল আশপাশের সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে মৌচাকে জমা করছে। পরে সেখান থেকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সংগ্রহ করা হচ্ছে খাঁটি ও সুস্বাদু মধু।
মূলতঃ কুমারখালীতে মৌ চাষ করে মধু আহরণ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এতে একদিকে যেমন মানসম্মত খাঁটি মধু উৎপাদন হচ্ছে, অন্যদিকে মৌমাছির পরাগায়নের ফলে বাড়ছে সরিষার ফলন—লাভবান হচ্ছেন কৃষক ও মৌ খামারিরা।
সরেজমিনে মধু খামারি সুমন হোসেন জানান, দুই মাস ধরে মধু সংগ্রহ কার্যক্রম চলবে। এ মৌসুমে তিনি অন্তত ৫ টন মধু উৎপাদনের আশা করছেন। স্থানীয় বাজারে এই মধু প্রতি কেজি ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হলেও উৎপাদিত মধুর বড় একটি অংশ ভারতে রপ্তানি করা হয়। পরে ভারতের ডাবরসহ বিভিন্ন কোম্পানির নামে তা বাজারজাত হয়, যা বাংলাদেশে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। সুমন জানান, মৌচাষ থেকে প্রতি মাসে তার দেড় থেকে দুই লাখ টাকা আয় হচ্ছে। তার খামার থেকে প্রতিদিনই স্থানীয় মানুষ মধু কিনে নিয়ে যান, অনেকেই আগ্রহভরে খামার দেখতে আসেন।
স্থানীয় কৃষক সিরাজুল ঘশ জানান, সরিষা খেতে মৌচাষের এই দৃশ্য তাদের নতুনভাবে উদ্বুদ্ধ করছে। আগে এ বিষয়ে তেমন ধারণা না থাকলেও এখন মৌচাষে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তিনিও মৌচাষে উদ্যোগ নিতে চান।
কুমারখালী উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম জানান, লাখ লাখ মৌমাছি সরিষা ফুলে বসে সুষ্ঠু পরাগায়নে সহায়তা করছে। এর ফলে সরিষার ফলন ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। কৃষি বিভাগ সূত্রে আরো জানা গেছে, শুধু চর জগন্নাথপুর নয়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চলতি মৌসুমে প্রায় ৬০০টি মৌচাক বসানো হয়েছে। এসব মৌচাক থেকে অন্তত ৬ টন মধু উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
কুমারখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাইসুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে কুষ্টিয়া জেলায় প্রায় ৩ হাজার ১০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। এসব জমি থেকে আনুমানিক ৪ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন সরিষা উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে মাত্র ৩ু৪টি স্থানে বাণিজ্যিকভাবে মৌচাষ করা হয়েছে। সব সরিষা খেতকে মৌচাষের আওতায় আনা গেলে বিপুল পরিমাণ মধু উৎপাদনের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে।