চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দিনে–রাতে প্রকাশ্যে ছোটবড় এস্কেভেটর দিয়ে পাহাড় ও টিলা কেটে মাটি তোলা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাবশালী কিছু চক্র ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় ধ্বংসের এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
উপজেলার একসময়কার সবুজ পাহাড়টিলাগুলো এখন রাতের আঁধারে সিন্ডিকেটের হাতে নিশ্চিহ্ন হচ্ছে। পাহাড় কাটা, মাটি বিক্রি ও বালু পাচারের মাধ্যমে পরিবেশের ভয়াবহ ক্ষতিও হচ্ছে।
সরজমিনে দেখা যায়, বাগানবাজার ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ‘গাডের দোকান’ এলাকায় বেলাল কোম্পানির বাড়ির পেছনে দিনে–রাতে এস্কেভেটর দিয়ে পাহাড় কাটার কাজ চলছে।
স্থানীয়রা জানান, বহুদিন ধরে একইভাবে টিলা কেটে মাটি অন্য জায়গায় ভরাট করা হচ্ছে। পাইন্দংসহ ফটিকছড়ির বিভিন্ন টিলা এলাকায় দিনরাত মাটি বিক্রি চলছে নির্লজ্জভাবে। ঢালু টিলা কেটে নেওয়ায় যেকোনো সময় বড় ধরনের ভূমিধসের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, এসব চক্রের একটি অংশ অবৈধভাবে হালদা নদী থেকেও বালু উত্তোলন করছে। দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা এতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, অবৈধ পাহাড় কাটা ও মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে একাধিকবার অভিযান হয়েছে। ভেকো, ট্রাকসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি জব্দ, জরিমানা ও কারাদণ্ড দেওয়া হলেও মূল হোতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। অভিযান শেষ হলেই কয়েকদিন পর আবার শুরু হয়ে যায় পাহাড় কাটা।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা নিয়মিত অভিযান চালাই। তবে ফটিকছড়ি বড় উপজেলা জনবল সংকট ও দূরত্বের কারণে খবর পেয়ে অনেকেই পালিয়ে যায়। তারপরও আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। বাগানবাজারের ঘটনাটিও খতিয়ে দেখা হবে।’
দাঁতমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ বরকত উল্লাহ বলেন, ‘অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নিই। বিষয়টি আপনার কাছ থেকেই জানলাম। যাচাই করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম কার্যালয়ের রিসার্চ অফিসার আশরাফ উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা বলছেন, রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পায় না। দিনেরাতে এস্কেভেটর, ট্রলি ও শ্রমিকেরা পাহাড় কেটে মাটি তুলতেই ব্যস্ত থাকে। এতে ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে, আর পাহাড়ধসের ঝুঁকি প্রতিদিনই বাড়ছে।