ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে সাইবার সুরক্ষা আইনে করা মামলায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শ্রীশান্ত রায়কে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিন দিনের রিমান্ড শেষে গতকাল মঙ্গলবার চকবাজার থানার এসআই শাজাহান সিরাজ তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অপর দিকে জামিন চেয়ে আবেদন করেন শ্রীশান্ত। শুনানির পর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আশরাফুল ইসলাম এ তথ্য দিয়েছন।

সহপাঠীকে যৌন হয়রানি, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগ তুলে শ্রীশান্তর শাস্তির দাবিতে ২১ অক্টোবর গভীর রাতে বিক্ষোভে নামে বুয়েটের একদল শিক্ষার্থী। বিক্ষোভের মুখে রাতেই তাকে হেফাজতে নেয় চকবাজার থানা পুলিশ। পরের দিন চকবাজার থানায় বুয়েটের সিকিউরিটি অফিসার আফগান হোসেন তার বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সেদিন তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর ২৩ অক্টোবর তদন্ত কর্মকর্তা চকবাজার থানার এসআই শাজাহান সিরাজের আবেদনে শ্রীশান্তর বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ সংযোজন করা হয়। গেল ৩১ অক্টোবর তার তিন দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়। আদালত ৫ নভেম্বর আসামির উপস্থিতিতে শুনানি নিয়ে তাকে তিন দিনের রিমান্ডে রিমান্ডে পাঠায়।

মামলায় বলা হয়, বুয়েটের আহসান উল্লাহ হলে অবস্থান করে ছদ্ম নাম ‘উইকলি সার্ভিস ৯২৩’ (ইংরেজিতে) আইডি ব্যবহার করে শ্রীশান্ত মুসলমান নারী ও ইসলাম ধর্ম নিয়ে গেল ৮ জুন থেকে ৭ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন লেখালেখি করেন। তিনি অনেক ‘অশ্লীল, কুরুচিপূর্ণ, ধর্মীয় বিদ্বেষপূর্ণ’ বক্তব্য পোস্ট করেন।

বাদীর ভাষ্য, দীর্ঘদিন চেষ্টা করে ছদ্মনাম ব্যবহার করা আইডির প্রকৃত পরিচয়ধারী ব্যক্তি আসামি শ্রীশান্ত রায়কে শনাক্ত করা হয়।