মোঃ রফিকুল ইসলাম, পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা : গত বছরের ৩৪ জুলাই ঢাকার গুলিস্তানে ‘বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে’ অংশ নিতে গিয়ে গুলীবিদ্ধ হন কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার সহশ্রাম ধুলদিয়া ইউনিয়নের নাবারিয়া গ্রামের মো. সাইফুল ইসলাম (৩২)। আন্দোলনের সময় মুখে গুলী লাগলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে সাধারণ ছাত্রজনতা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

সাইফুলের গুলীটি থুতনি হয়ে গলায় আটকে যায়। চিকিৎসকরা জানান, গুলীটি ঝুঁকিপূর্ণভাবে গলায় অবস্থান করছে এবং অস্ত্রোপচারে জটিলতা হতে পারে। ১৭ দিন চিকিৎসা শেষে তিনি বাড়ি ফিরে এলেও আজও গলায় গুলী নিয়ে অসহনীয় যন্ত্রণা সহ্য করছেন।

সাইফুল গুলিস্তানে গাড়ি লোড-আনলোডের কাজ করতেন এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। বর্তমানে তিনি কাজ করতে অক্ষম। তার স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে, বাবা, দাদী ও ছোট ভাই নিয়ে মোট সাতজনের সংসার চলছে দারিদ্র্যসীমার নিচে।

সাইফুলের স্ত্রী হিমা আক্তার বলেন, “আমার স্বামীই ছিলেন পরিবারের একমাত্র ভরসা। এখন তার চিকিৎসা, সংসারের খরচÑসব কিছু মিলিয়ে আমরা একেবারে দিশেহারা।”

গুলীবিব্ধ সাইফুল ইসলাম জানান, “২৪’ গণঅভ্যুত্থানে গুলীবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে পারিনি। গলায় ছিদ্র করে শ্বাস নিতে হয় এবং খাবার গ্রহণও কষ্টসাধ্য। চিকিৎসার জন্য জুলাই ফাউন্ডেশন ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১ লক্ষ টাকা করে মোট ২ লক্ষ টাকা পেয়েছি। কিন্তু উন্নত চিকিৎসার জন্য যা প্রয়োজন, তা আমাদের সামর্থ্যরে বাইরে।” তিনি আরও বলেন, “সরকারি সহায়তা যদি আরও থাকতো এবং কোনো বিদেশি বিশেষজ্ঞ দিয়ে গুলী অপসারণ সম্ভব হতো, তাহলে আমরা কিছুটা স্বস্তি পেতাম।”

সাইফুলের বাবা মো. জসিম উদ্দিন জানান, “আমার ছেলে কোনো অপরাধ করেনি। ছাত্র-জনতার ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনে অংশ নিয়ে গুলীবিদ্ধ হয়েছে। আমি সরকারের কাছে সন্ত্রাসীদের বিচারের দাবি জানাই।”

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাঈদুল ইসলাম বলেন, “গুলীবিদ্ধ সাইফুল ইসলামকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক লক্ষ টাকা দেয়া হয়েছে। তার যদি কোনো সমস্যা থাকে, আমাদের জানালে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”

উল্লেখ্য, সরকারি ‘জুলাই গেজেট’-এ ২০২৪ সালের আন্দোলনের আহতদের তালিকায় সাইফুল ইসলামের নাম ৬৫৯ নম্বরে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।