ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে গতকাল শনিবার বিকেলে মহান বিজয় দিবসের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মেডিকেল বিভাগের সভাপতি ডা. জিএম ফারুক হোসাইনের সভাপতিত্বে এবং মেডিকেল বিভাগের সেক্রেটারি ডা. মোহাম্মদ মারুফ শাহরিয়ারের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সহকারী অধ্যাপক ডা. নাসরিন আক্তার, সহযোগী অধ্যাপক ডা. বিলকিস ফেরদৌস, মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি ডা. সালমা,

ডা. ফেরদৌস আরা বানু কাকলি প্রমুখ। এছাড়াও সভায় ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মেডিকেল বিভাগের (মহিলা বিভাগ) বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে নারী সমাজের ভূমিকা অনস্বীকার্য। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামে নারী সমাজের অবদান চিরস্মরণীয়। সবশেষ জুলাই বিপ্লবে নারী সমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। যখন ফ্যাসিস্ট হাসিনার নির্দেশে রাষ্ট্রীয় বাহিনী জনগণের ওপর গনহত্যা চালাতে শুরু করে তখন এদেশের নারী সমাজ চুপ করে কিংবা ভয় পেয়ে বসে থাকিনি। বরং ছাত্র-জনতার সঙ্গে সমানতালে ভূমিকা রেখেছে। আহতদের চিকিৎসা দিতে শেখ হাসিনা নিষেধ করলেও চিকিৎসকবৃন্দ নৈতিকতা আর দেশপ্রেমের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। চিকিৎসকদের মধ্যে নারী-পুরুষ সকলে আহতদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করেছে। চিকিৎসকরাও চেয়েছেন জুলুমের অবসান ঘটিয়ে ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ হোক। ১৮ কোটি মানুষের স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রত্যেক নাগরিককে নিজ-নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে তিনি আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ কোনো দলের কিংবা ব্যক্তির নয়। জুলাই বিপ্লবও কোনো একক দলের কিংবা ব্যক্তির নয়। প্রতিটি অর্জনের পিছনে লেগে আছে এদেশের জনগণের জীবন ও রক্ত। রক্ত দিয়ে কেনা স্বাধীনতা কোনো আগ্রাসন কিংবা আধিপত্যবাদের হাতে ছেড়ে দেয়া হবে না। ড. হেলাল উদ্দিন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যায় যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করার মাধ্যমে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।