আদমদীঘি (বগুড়া) : বগুড়ার আদমদীঘিতে ফিলিং স্টেশনে তেল মজুদ থাকা সত্বেও বিক্রি না করার অভিযোগে হামীম ফিলিং স্টেশন (পেট্রল পাম্প) এর ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহি ম্যাজিষ্ট্রেট মাহমুদা সুলতানা। গত শনিবার বিকেলে আদমদীঘির অদুরে পশ্চিম ঢাকারোড এলাকায় অবস্থিত ওই ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালিয়ে তিনি এ জরিমানা করেন।
ভ্রাম্যমান আদালত সুত্রে জানাযায়, গত শনিবার বিকেলে আদমদীঘি উপজেলায় ফিলিং স্টেশনে পেট্রল মজুদ থাকা সত্বেও পেট্রল সরবরাহ না করে বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে তেল নিতে আসা যানবাহন মালিকরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। এ নিয়ে হৈচৈ ও প্রশাসনকে অবহিত করেন। বিকেলে আদমদীঘির সহকারি কমিশনার ও নির্বাহি ম্যাজিষ্ট্রেট মাহমুদা সুলতানার নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালান। অভিযানে পশ্চিম ঢাকারোড এলাকায় অবস্থিত হামীম ফিলিং স্টেশনের তেল মজুদ বহি পরিদর্শন করে দেখেন ওই পাম্পে জ¦ালানি তেল মজুত রয়েছে। তথাপিও গ্রাহকের নিকট পেট্রল সরবরাহ করা হয়নি। এসময় ভ্রাম্যমান আদালত হামীম ফিলিং স্টেশন-এর ভোক্তা সংরক্ষন আইন ২০০৯ মোতাবেক মালিকের ৩০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।
হাটহাজারী চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করার অভিযোগে নাজিরহাট নতুন ব্রিজ সংলগ্ন ‘লতিফ এন্ড ব্রাদার্স’ ফিলিং স্টেশনকে জরিমানা করেছে উপজেলা প্রশাসন।
শনিবার (২৮ মার্চ) রাতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে দেখা যায়, সাধারণ গ্রাহকদের কাছে অকটেন বিক্রি বন্ধ ছিল। তবে প্রশাসনের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ট্যাংকে পর্যাপ্ত অকটেন মজুদ থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে।
মজুদ থাকা সত্ত্বেও তেল বিক্রি না করার কারণে ফিলিং স্টেশনটিকে পেট্রোলিয়াম আইন, ২০১৬ অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশে মজুত থাকা তেল সাধারণ গ্রাহকদের কাছে পুনরায় বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, হাটহাজারীর সব ফিলিং স্টেশনে নজরদারি অব্যাহত থাকবে। জনস্বার্থে অনিয়ম ধরা পড়লে ভবিষ্যতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় এক ব্যবসায়ীর গোয়ালঘর থেকে ৩০ লিটার পেট্রোল উদ্ধার করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পরিবারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
গত শুক্রবার বিকেলে উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নে এ অভিযান পরিচালনা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাফিউর রহমান। অভিযুক্ত ব্যবসায়ী আবু জাহান ওই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বাড়ীর মালিক রৌমারী উপজেলার দাত ভাংগা ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবু জাহানের গোয়ালঘরে ড্রামে পেট্রোল মজুত করে বেশি দামে বিক্রি করছিলেন তার ছেলে একই ইউনিয়নের যুবলীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এরশাদুল হক। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার বিকেলে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায়। এ সময় গোয়ালঘর থেকে ড্রামে সংরক্ষিত ৩০ লিটার পেট্রোল ও তেল বিক্রির বিভিন্ন উপকরণ জব্দ করা হয়।
গোমস্তাপুর (চাঁপাইনবাবগঞ্জ)
বাইরে ঝুলছে ‘তেল নেই’Ñআর ভেতরে গচ্ছিত হাজার হাজার লিটার জ্বালানি! এমনই চমকপ্রদ চিত্র মিলেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় একটি ফিলিং স্টেশনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও অবৈধভাবে জ্বালানি মজুদের অভিযোগে ওই পাম্পকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার পার্বতীপুর ইউনিয়নের বড়দাদপুর এলাকায় অবস্থিত ‘মেসার্স ব্রাদার্স এন্ড সিস্টার ফিলিং স্টেশন’-এ এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকির মুন্সী।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, পাম্পটির সামনে ‘পাম্পে তেল নেই’ লেখা স্টিকার টানিয়ে বিক্রি বন্ধ রাখা হয়। এতে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয় এবং কৃত্রিম সংকটের আশঙ্কা দেখা দেয়। তবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের দল স্টোরেজ পরীক্ষা করে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি মজুদের প্রমাণ পায়।
তল্লাশিতে দেখা যায়, পাম্পটিতে মজুদ রয়েছে ২,৩৬৮ লিটার পেট্রোল, ৩,৭৬০ লিটার ডিজেল এবং ৩,৬৫৫ লিটার অকটেনÑ মোট প্রায় সাড়ে ৯ হাজার লিটার জ্বালানি। অথচ গ্রাহকদের কাছে তেল না থাকার অজুহাতে বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছিল।
গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা)
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ও খোলা বাজারে বিক্রির অভিযোগে দুই ব্যবসায়ীকে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে জব্দ করা হয়েছে ১৫০ লিটার ডিজেল।
শনিবার উপজেলার কামদিয়া বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তামশিদ ইরাম খান।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট নিরসন ও বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে পরিচালিত অভিযানে অবৈধভাবে তেল মজুতের দায়ে কামদিয়া বাজারের মুদি ব্যবসায়ী আলম মিয়াকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় তার দোকান থেকে ১৫০ লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়।
এছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স ব্যবহার এবং অসাধু উপায়ে জ্বালানি তেল বিক্রির অভিযোগে “মেসার্স আশা এন্টারপ্রাইজ” নামের একটি মিনি ফিলিং স্টেশনের মালিক বাদশা মিয়াকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তামশিদ ইরাম খান জানান, অভিযানে অবৈধ কার্যক্রমের প্রমাণ পাওয়ায় পেট্রোলিয়াম আইন, ২০১৬-এর ধারা ৪(খ) লঙ্ঘনের দায়ে ধারা ২০(১)(ক) অনুযায়ী তাদের এই অর্থদ- প্রদান করা হয়েছে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।