মোঃ লাভলু শেখ (লালমনিরহাট)
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় প্রায় ৫৩ কোটি টাকার সম্পদ থাকার তথ্য দিয়েছেন, লালমনিরহাট- সদর-৩ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আসাদুল হাবিব দুলু। এ ছাড়া বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে ২৪টি মামলা থাকার তথ্য রয়েছে। হলফনামা পর্যালোচনায় দেখা যায়, তাঁর বার্ষিক আয়ের প্রধান উৎস কৃষি এবং তাঁর মোট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৫৩ কোটি টাকা। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। আসাদুল হাবিব দুলূ ২০০১ সালের ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে প্রথমে যোগাযোগ উপমন্ত্রী এবং পরে খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রনালয়ের উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
এক সময়ের কলেজ অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু বর্তমানে তাঁর পেশা হিসেবে ‘কৃষি ও ব্যবসা’ উল্লেখ করেছেন। পূর্বে তিনি লালমনিরহাটের শহীদ আবুল কাশেম মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষের দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর স্ত্রী লায়লা হাবিব পেশায় একজন ব্যবসায়ী, বিশেষ করে পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। দুলুর ২ সন্তানের মধ্যে আহনাফ হাবিব ইনতেসার বর্তমানে বেসরকারি চাকরিতে নিয়োজিত এবং ছোট ছেলে আহমিক হাবিব ইয়ারদান ছাত্র। হলফনামা অনুযায়ী, ২ ছেলের নামে কোনো সম্পদ বা ব্যাংক জমার তথ্য উল্লেখ করা নেই।আসাদুল হাবিব দুলুর বার্ষিক আয়ের বড় অংশ আসে কৃষি খাত থেকে।কৃষি খাত: ১ কোটি ১৪ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭০ টাকা। বাড়ি/অ্যাপার্টমেন্ট/দোকান ভাড়া: ১৪ লাখ ৬৭ হাজার টাকা। ব্যবসা: ৫ লাখ ২৩ হাজার ৩৫৫ টাকা। অন্যান্য উৎস: ৬ লাখ ৭২ হাজার ৭০২ টাকা। শেয়ার ও ব্যাংক আমানত: ৪৬ হাজার ৪৩৪ টাকা। নির্বাচনী ব্যয়ের জন্য খোলা নতুন অ্যাকাউন্টে ১০ লাখ ৮২ হাজার ৮২০ টাকাসহ তাঁর হাতে ও বিভিন্ন ব্যাংকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ রয়েছে। নগদ অর্থ: ১৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা। সোনালী ব্যাংক: ৮ লাখ ৫৫ হাজার ৬৮৬ টাকা এবং ৩৮ হাজার ৭৬৯ টাকা (২টি পৃথক হিসাব)।
অন্যান্য ব্যাংক: ব্যাংক এশিয়া (২৬,৬৭৭ টাকা), এবি ব্যাংক (৪৭,৬৭৭ টাকা), প্রাইম ব্যাংক (৩৫,৬০৬ টাকা), ডাচ-বাংলা ব্যাংক (৩৮,৭৬৯ টাকা), সিটি ব্যাংক (২,১৫৬ টাকা) এবং ইসলামী ব্যাংকে নামমাত্র স্থিতি (২৬ টাকা)।
বিনিয়োগ ও বাহন হিসেবে দুলুর রয়েছে: বিনিয়োগ: তালিকাভুক্ত নয় এমন কোল্ড স্টোরেজ অর্জন-এ ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ব্যাংকের শেয়ার (ক্রয়মূল্য ৪,৪৮,৬৪০ টাকা)।যানবাহন: তাঁর মালিকানায় রয়েছে ২টি মাইক্রোবাস, দুটি বাস, একটি ট্রাক এবং একটি নতুন গাড়ি। এর মধ্যে মাইক্রোবাস ২টির বর্তমান বাজারমূল্য ৬২ লাখ ৩৭ হাজার টাকা এবং বাস ২টির বর্তমান মূল্য প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা। অন্যান্য: ইলেকট্রনিক্স পণ্য, আসবাবপত্র ও একটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ অন্যান্য অস্থাবর সম্পদের বর্তমান আনুমানিক মূল্য ২ কোটি ৪৬ লাখ ৯৯ হাজার ১২০ টাকা। দুলুর স্থাবর সম্পদের মধ্যে জমির পরিমাণই সবচেয়ে বেশি। কৃষি জমি: ৩৬.৫১২ একর (সরকারি গড় মূল্য ২২ কোটি ৮৭ লাখ ১২ হাজার ৮৫৯ টাকা)।