গত এক বছরে সুন্দরবন ও আশপাশের উপকূলীয় এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে অস্ত্রসহ ৪৯ জন বনদস্যু ও জলদস্যুকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এসব অভিযানে মোট ১১২টি বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। আটককৃতদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থার জন্য পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

রোববার (২৯ ডিসেম্বর) কোস্ট গার্ড আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, সুন্দরবনে ডাকাত ও জলদস্যু নির্মূলে কোস্ট গার্ডের নিয়মিত ও গোয়েন্দা-ভিত্তিক অভিযানের ফলেই এ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। অভিযানকালে ৩৮টি আগ্নেয়াস্ত্র, দুটি হাতবোমা, ৭৪টি দেশীয় অস্ত্র, অস্ত্র তৈরির বিপুল সরঞ্জাম, ৪৪৮ রাউন্ড বিভিন্ন ধরনের কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি ডাকাতদের হাতে জিম্মি থাকা ৫২ জন নারী ও পুরুষকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয় কোস্ট গার্ড।

প্রেস ব্রিফিংয়ে ক্যাপ্টেন মেসবাউল ইসলাম জানান, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দেশের উপকূলীয় ও নদীতীরবর্তী অঞ্চলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ, বনজ ও মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানবিক সহায়তা প্রদান করে আসছে। বিশেষ করে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা, জেলে ও বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জলদস্যু ও বনদস্যু দমনে কোস্ট গার্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

তিনি আরও বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানে ৫ হাজার ৬৭৪ পিস ইয়াবা, ১৩ কেজি গাঁজা, ১ হাজার ২৫৬ বোতল বিদেশী মদ ও বিয়ার জব্দ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ৫১ জন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ সংরক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন ৮২৪ কেজি হরিণের মাংস ও হরিণের বিভিন্ন অঙ্গ জব্দ করেছে। এ সময় ৬০০টি হরিণ শিকারের ফাঁদ উদ্ধারসহ ২৯ জন শিকারিকে আটক করা হয়। এছাড়া এক হাজার ৪০০ পিসের বেশি গেওয়া ও গড়ান কাঠ, দুটি তক্ষক, ৬২টি বিভিন্ন প্রজাতির কচ্ছপ এবং প্রায় ৩ হাজার ৪০০ কেজি পলিথিন জব্দ করা হয়েছে।

নৌপথে নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে তিনি আরও জানান, রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সফরকালীন সময়ে কোস্ট গার্ড নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে থাকে। পাশাপাশি সুন্দরবনে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পর্যটকবাহী নৌযানে লাইফ জ্যাকেটের ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং অতিরিক্ত যাত্রী বহন রোধে নিয়মিত টহল কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড নৌবাহিনী, র‌্যাব, পুলিশ, বন বিভাগ, মৎস্য অধিদফতরসহ বিভিন্ন মেরিটাইম সংস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। উপকূলীয় নিরাপত্তা, বন্দর রক্ষা, বনজ সম্পদ সংরক্ষণ ও মানবিক সহায়তার মাধ্যমে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের আস্থা অর্জন করেছে এবং ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।