মনিরুজ্জামান মোংলা : মোংলায় উন্মুক্ত পরিবেশে জমে থাকা প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্যের স্তূপের পাশে আয়োজন করা হলো সুন্দরবন দিবসের কর্মসূচি। চারদিকে ছড়িয়ে থাকা আবর্জনা, তীব্র দুর্গন্ধ এবং মাছির উপদ্রবের মধ্যেই মাস্ক পরে সেখানে উপস্থিত হন আমন্ত্রিত অতিথি ও নীতিনির্ধারকরা। পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ইয়োথ ফর সুন্দরবন’ এই ব্যতিক্রমী আয়োজনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের সরাসরি দূষণের বাস্তব চিত্র অনুভব করাতে চেয়েছে।

আয়োজকদের লক্ষ্য ছিল, পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে আলোচনা যেন কেবল সভাকক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে; বরং নীতিনির্ধারকরা যেন দূষণের প্রকৃত অবস্থা নিজ চোখে দেখেন এবং শারীরিকভাবে উপলব্ধি করেন। সেই উদ্দেশ্যে বুধবার দুপুরে মোংলার মেরিন ড্রাইভ সড়কের একটি বর্জ্য স্তূপসংলগ্ন স্থানে কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। “বাঁচাই সুন্দরবন, বন্ধ করি প্লাস্টিক দূষণ” স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে একদিকে ছিল অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, অন্যদিকে শিশুদের অঙ্কিত পরিচ্ছন্ন ও সবুজ সুন্দরবনের চিত্রকর্ম। কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিশুদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোংলা পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র মোঃ জুলফিকার আলী। বিশেষ অতিথি ছিলেন মোংলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদার। বর্জ্যের তীব্র গন্ধ ও অস্বস্তিকর পরিবেশের কারণে উপস্থিত অতিথিরা মাঝেমধ্যে মাস্ক সরিয়ে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করেন, যা তাদের কাছে দূষণের পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট করে তোলে।

প্রধান অতিথি মোঃ জুলফিকার আলী বক্তব্যে বলেন, এই আয়োজন তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে। তিনি উল্লেখ করেন, মানুষ সাময়িকভাবে মাস্ক ব্যবহার করে দূষণ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারে, কিন্তু প্রকৃতি বা সুন্দরবনের সেই সুযোগ নেই; প্রতিনিয়ত এই দূষণের প্রভাব তাকে বহন করতে হচ্ছে। তিনি জানান, এ পরিস্থিতির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সরকারি পর্যায়ে তুলে ধরবেন এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করার চেষ্টা করবেন।

সংগঠনের মোংলা উপজেলা সভাপতি মোঃ সোহেল রানা জানান, সচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো মিলনায়তন বা আরামদায়ক স্থানে অনুষ্ঠান না করে বর্জ্যের স্তূপের পাশে আয়োজন করা হয়েছে। তার মতে, সরাসরি এমন পরিবেশে উপস্থিত হলে দূষণের বাস্তবতা আরও গভীরভাবে অনুধাবন করা সম্ভব, যা কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে সহায়ক হতে পারে।