সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলা সদরের মানিকখালি ব্রিজ পারাপারে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। সড়ক বিভাগ কর্তৃক টোল আদায়ের মূল্য নির্ধারণ করে দিলেও কোন প্রকার সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছেন না ইজারাদাররা। ফলে প্রতিদিন শতশত মোটরসাইকেল চালক ও যাত্রীসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালক হয়রানীর শিকার হচ্ছেন।

সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্র জানায়, সাতক্ষীরা-আশাশুনি-গোয়ালডাঙ্গা-পাইকগাছা সড়কের মানিকখালি ব্রিজের টোল আদায়ের জন্য মুক্তি কনস্ট্রাকশনের সাথে সাতক্ষীরা সড়ক বিভাগের গত ২০২৪ সালের ১৪ জানুয়ারি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এতে উল্লেখ করা হয় ২০১৪ সালের টোল নীতিমালা অনুযায়ী টোল আদায় করতে হবে।

সেই হিসেবে বড় বাস ৪৫ টাকা, মিটি ট্রাক ৪০টাকা, কৃষি কাজে ব্যবহৃত যান ৩০টাকা, মিনি বাস ২৫ টাকা, মাইক্রোবাস ২০টাকা, চার চাকার যান ২০টাকা, তিন ও চার চাকার মোটরাইজড ৫টাকা, মটরসাইকেল ৫টাকা এবং ভ্যান-রিক্সা ও বাইসাইকেল ৫টাকা হারে টোল আদায় করতে হবে।

কিন্তু ঠিকাদার কর্তৃপক্ষ উক্ত চুক্তি অমান্য করে সড়ক বিভাগের নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে জোর পূর্বক সংশোধিত টোল নীতিমালা ২০২৪ অনুযায়ী বেশি অর্থ আদায় করছে। টোল নীতিমালা ২০২৪ এখনও সরকার কর্তৃক অনুমোদন হয়নি। ইজারাদার গায়ের জোরে এবং রাজনৈতিক আশ্রয়ে সাধারণ জনগনের কাছ থেকে বেশি হারে অর্থ আদায় করছে। ফলে জনভোগান্তিসহ অবৈধভাবে জনগনের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

সাতক্ষীরা শহিদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক এলাকার মটরসাইকেল চালক হাসেম আলী বলেন, আমরা মটরসাইকেল ভাড়া নিয়ে আশাশুনি, বড়দল, খাজরা, আনুলিয়া ও প্রতাপনগরসহ বিভিন্ন এলাকায় যেয়ে থাকি।

আগে মানিকখালিতে ব্রিজ না থাকার কারণে অনেক সময় নষ্ট হতো এবং কষ্ট সয্য করতে হতো। এই ব্রিজের কারণে আশাশুনির উপজেলার পাশাপাশি খুলনার কয়রা এবং পাইকগাছা উপজেলার মানুষের চলাচলের জন্য সুবিধা হয়েছে। এই ব্র্রিজটি উদ্বোধনের পর কোন টোল আদায় করা হতো না। পরে মটরসাইকেলের জন্য ৫টাকা করে টোল আদায় করা হতো। কিš‘ বর্তমান মটরসাইকেল ১০টাকা করে টোল নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টেও পর মনে করেছিলাম আর টোল আদায় করা হবে না। কিš‘ দেখলাম বিপরীত চিত্র। ৫টাকার বিপরীতে ১০টাকা করে টোল আদায় করা হচ্ছে। এটি আমাদের প্রতি চরম অন্যয় করা হচ্ছে। ব্রিজটি টোলমুক্ত ঘোষণার জন্য প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।