# সূর্যের দেখা মিলেনি অনেক স্থানে

# হাসপাতালগুলোতে ঠাণ্ডাজনিত রোগীর ভিড়

দেশজুড়ে জেঁকে বসেছে শীত। হিমেল হাওয়ার দাপটে বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ক্রমেই কমছে। এরই মধ্যে দেশের দিকে ধেয়ে আসছে নতুন শৈত্যপ্রবাহ ‘কনকন’। আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা জানিয়েছে, এই শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে আগামী কয়েক দিনে শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বার্তায় বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম বিডব্লিউওটি জানায়, ৩১ ডিসেম্বর থেকে ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত স্থায়ী থাকতে পারে শৈতপ্রবাহ ‘কনকন’।

ঢাকাসহ সারাদেশে শীতের প্রকোপ আরও বেড়েছে। রাত থেকে ভোর পর্যন্ত তাপমাত্রা অনেকখানি নেমে যাওয়ায় অনেক এলাকায় তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। সঙ্গে যোগ হয়েছে ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাস। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে, বাড়ছে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে শিশু, বয়স্ক ও খেটে খাওয়া মানুষ।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, শৈত্যপ্রবাহটি সবচেয়ে বেশি অনুভূত হবে রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে। পাশাপাশি রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট এবং গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মাদারীপুর, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, চাঁদপুর ও আশপাশের জেলাতেও শীতের তীব্রতা বেশি থাকতে পারে। বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু এলাকায় শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব তুলনামূলক কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চল, ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বান্দরবানে শীত থাকলেও শৈত্যপ্রবাহ ততটা শক্তিশালী নাও হতে পারে। তবে দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলের কিছু জেলায় তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।

বিডব্লিউওটির হিসাবে চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নওগাঁ, পাবনা, বগুড়া, নাটোর, নড়াইল, যশোর, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাগুরা ও রাজবাড়ীসহ আশপাশের এলাকায় তাপমাত্রা ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব অঞ্চলে অন্য জায়গার তুলনায় শৈত্যপ্রবাহ আগে শুরু হতে পারে বলেও ধারণা করা হয়েছে।

গতকাল সারাদিন রাজধানী ঢাকার আকাশে সূর্যের দেখা মিলেনি। এমনটা হয়েছে দেশের বেশিরভাগ স্থানে। চারপাশ ছিল কুয়াশার চাদরে মোড়া। ঠান্ডা বাতাসের কারণে শহরের ব্যস্ততা কমে আসে। খুব প্রয়োজন আর জীবিকার তাগিদেই কেবল মানুষ বাইরে বেরিয়েছেন গরম কাপড় জড়িয়ে। কুয়াশার সঙ্গে বাতাস মিলিয়ে এমন শীতের দুর্ভোগে অনেকদিন পড়েননি রাজধানীবাসী। রিকশাচালক, দিনমজুর, ভ্যানচালকসহ খেটে খাওয়া মানুষদের জন্য এই শীত যেন আরও নির্মম। কনকনে বাতাস আর ঘন কুয়াশার ভেতর দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে ঠান্ডায় কাঁপছে মানুষ, কুয়াশার কারণে ঝাপসা হয়ে আসে দৃষ্টিসীমা। সূর্যের উষ্ণতা না পেয়ে কুয়াশায় অন্ধকার হয়ে আছে চারদিকÑশীতের এই তীব্রতায় নীরবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে রাজধানীর জীবন।

এদিন কিশোরগঞ্জের নিকলিতে সর্বনি¤œ তাপমাত্রার রেকর্ড করা হয়েছে। জেলার আবহাওয়া কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক আক্তারুজ্জামান ফারুক জানান, সারাদেশের মধ্যে নিকলীতেই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। কয়েক দিন ধরে কিশোরগঞ্জে তাপমাত্রা কমছে। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান অনেকটা কমে যাওয়ায় তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। তবে রোববারের তুলনায় সোমবার শীতের তীব্রতা সামান্য কমলেও জেলার ওপর দিয়ে এখনো মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। চলতি মাসজুড়ে শীতের প্রভাব অব্যাহত থাকতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর আগেই জানিয়েছে, সারা দেশে কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে অনেক জায়গায় শীতের অনুভূতি অব্যাহত থাকতে পারে। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ খো. হাফিজুর রহমান আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানিয়েছেন, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে।

লঞ্চ চলাচল বন্ধ : ঘন কুয়াশার কারণে বরিশাল-ঢাকা নৌ-রুটসহ অভ্যন্তরীণ সব রুটে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিআইডব্লিউটিএ বরিশাল বন্দর কর্তৃপক্ষ এ ঘোষণা দেন। এদিকে হঠাৎ করে লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করায় বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা। বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ’র মো. আসাদুজ্জামান জানান, ঘন কুয়াশার কারণে নদীপথে দৃষ্টিসীমা ৫০ মিটারের নিচে নেমে এসেছে। এ কারণে নৌ-পথে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে। তাই নৌ-যান চলাচল পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ কারণে নদীবন্দরে নোঙর করা লঞ্চে অবস্থানরত যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বরিশাল বিআইডব্লিউটিএর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. সোলায়মান বলেন, রোববার বরিশাল নদী বন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে চারটি এবং ঢাকা নদী বন্দর থেকে চারটি লঞ্চ বরিশাল ছেড়ে আসার কথা ছিল। তিনি বলেন, ঘন কুয়াশার কারণে নদীপথে রাতের দৃষ্টিসীমা কমে যাচ্ছে। এ কারণে দুর্ঘটনার শঙ্কা রয়েছে।

তাই নৌ অধ্যাদেশ অনুযায়ী ঘন কুয়াশার প্রেক্ষিতে যাত্রীদের যানমাল এবং নৌযানের নিরাপত্তার স্বার্থে কর্তৃপক্ষের নির্দেশে রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে বরিশাল-ঢাকাসহ অভ্যন্তরীণ সব রুটে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে ঘন কুয়াশার কারণে রোববার সকাল থেকে বরিশালের কোথাও সূর্যের দেখা মেলেনি। সড়ক এবং হাটবাজারে মানুষের উপস্থিতিও তুলনামূলক কম ছিল।

ঘন কুয়াশার কারণে শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বরিশাল আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র অবজার্ভার মো. আনিসুর রহমান। তিনি জানান, রোববার সকাল ৯টায় দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ ১৭ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস । তবে শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা নেই। দেশের বিভিন্ন জেলায় শীতের কারণে বোরো বীজতলা তৈরি ও জমিতে ধান রোপণের কাজ ব্যাহত হচ্ছে। অনেক জায়গায় মানুষ আগুন জ্বেলে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হকার্স মার্কেট ও ফুটপাতের দোকানে গরম কাপড়ের বিক্রি বেড়েছে। লেপ-তোশক তৈরির কারখানায়ও বেড়েছে ব্যস্ততা।

শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হকার্স মার্কেট ও ফুটপাতের দোকানে গরম কাপড়ের বিক্রি বেড়েছে। লেপ-তোশক তৈরির কারখানায়ও বেড়েছে ব্যস্ততা। শীতের তীব্রতায় ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে।

জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে প্রতিদিন হাসপাতালে ভিড় করছেন রোগীরা। দেশের মেডিকেলগুলোতে ধারণ ক্ষমতার বাইরে চিকিৎসা নিচ্ছে। ঢাকার বাইরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৯ ও ১০ নম্বর শিশু ওয়ার্ডে ধারণক্ষমতার বাইরে শিশুরা চিকিৎসা নেয়। তাদের অধিকাংশ শীতজনিত রোগ অর্থাৎ ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছে। নওগাঁয়ও গতকাল দিনভর ভারী কুয়াশায় সূর্যের দেখা মেলেনি। বৃষ্টির মতো ঝরেছে শিশিরও। ঘন কুয়াশার কারণে দিনের অধিকাংশ সময় সড়কে যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে।

চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা : কুয়াশার চাদরে ঢেকে থাকছে চুয়াডাঙ্গা। সকাল থেকে সন্ধ্যা কখনোই সূর্যের দেখা মিলছে না। হিম শীতল বাতাস, শীতের তীব্রতা আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানিয়েছেন, চুয়াডাঙ্গায় গতকাল সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯১ শতাংশ। এদিন সকাল ৬টায় সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ওই সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৩ শতাংশ। মূলত দিনের বেলায় সূর্যের তাপ না থাকায় শীতের আবহ বেশী মনে হচ্ছে। দ্রুত তাপমাত্রা কমার কারণে দুর্ভোগ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও নি¤œ আয়ের মানুষ বিপাকে পড়েছে। কাজ না পেয়ে তারা পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। কর্মহীন মানুষের খাদ্যাভাব মেটাতে আর্থিক সহায়তার জন্য কেউ এগিয়ে আসেনি। জেলা ও উপজেলা এবং পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি থেকে যৎসামান্য কম্বল বিতরণ করা হয়েছে, যা অপ্রতুল। জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। হাসপাতালগুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। বয়স্ক ও শিশুরা নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। শীতে জনদুর্ভোগ দিন দিন খারাপ পর্যায়ে গেলেও এটা নিরসনের জন্য কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেই।

লালমনিরহাট সংবাদদাতা : লালমনিরহাট জেলা সদরের বড়বাড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণ শিবরাম ঠকটাড়ি এলাকার ৭৮ বছর বয়সী মোঃ আচান আলী শীতের তীব্রতায় কাতরাচ্ছেন। তিনি জানান, জীবনের অধিকাংশ সময় শিমুলতলা বাস স্ট্যান্ডে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেছেন। তবে বয়সের ভারে এখন আর কাজ করার সামর্থ্য নেই।

চলমান শীতে তার কষ্ট অসহনীয় হয়ে উঠেছে। পর্যাপ্ত গরম কাপড় না থাকায় ঠান্ডায় হাত-পা ব্যথায় অবশ হয়ে আসে। নিয়মিত খাবার জোটে না। ছেঁড়া একটি চাঁদর ও ৩ বছর আগের একটি পাতলা কাঁথাই তার একমাত্র সম্বল। সন্তান থাকলেও তারা খোঁজ রাখে না। ফলে খেয়ে না খেয়ে এবং আশ্রয়হীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

আচান আলী বলেন, গরীব হওয়ার কারণে হয়তো শান্তিতে বাঁচার অধিকারটুকুও হারিয়ে ফেলেছি। ২ বছর আগে শীতের সময় একটি কম্বল পেয়েছিলাম। কিন্তু এবার কেউ খোঁজ নেয়নি। চেয়ারম্যান ও মেম্বারের কাছে গিয়েও দেখা করতে পারিনি।

তাকে ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদার জানিয়েছেন, শীতার্তদের জন্য সরকারি সহায়তা এখনও পর্যাপ্তভাবে পৌঁছায়নি। যেটুকু সহায়তা এসেছে। তা ইতিমধ্যেই বিতরণ করা হয়েছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমাদের শীতের কষ্টের কথা কেউ শুনতে বা দেখতে চায় না। আত্মীয়-স্বজন বা সরকারের পক্ষ থেকে বেঁচে থাকতে হয়তো খোঁজ নেবে না। মরে গেলে তখন খোঁজ নেবে। গতকাল সোমবার দুপুরে বড়বাড়ী বাজারের শিমুলতলা এলাকায় এসব কথা জানান, বৃদ্ধ আচান আলী।

অন্যদিকে, লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়নের বনমালি এলাকার শীতার্তরা দুঃখের কথা তুলে ধরেছেন। ৭৮ বছর বয়সি সোনাভান বেগম জানান, পুরোনো একটি কম্বল শীত নিবারণে কার্যকর নয়। জনপ্রতিনিধিদের কাছে গিয়েও তিনি কোনো সহায়তা পাননি। আর্থিক অক্ষমতার কারণে খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহানোই তার একমাত্র উপায়। ৬৮ বছর বয়সী বাছরন বিবি বলেন, একটি চাঁদর ও পাতলা খেতাই (কাঁথা) তার একমাত্র ভরসা। প্রচ- ঠা-ায় ঘর থেকে বের হতে না পারায় তিনি অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা করছেন।

সদর উপজেলার কুলাঘাট ও বড়বাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা জানান, তাদের ইউনিয়নে ৫ হাজারের বেশি শীতার্ত মানুষ থাকলেও সরকারি বরাদ্দে প্রাপ্ত কম্বল প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত কম। ফলে শীতবস্ত্রের সুষ্ঠু বিতরণ কার্যক্রমে চরম সংকট দেখা দিয়েছে। তারা জানান, চলতি মৌসুমে সরকারি ও বেসরকারিভাবে তেমন কোনো সহায়তা মেলেনি। শীতার্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে জরুরি ভিত্তিতে সরকারি কম্বল বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি তুলেছেন তারা।

জেলায় টানা কয়েক দিনের ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতে জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় দিনের বেলাতেও সড়কে যানবাহন হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করছে। নেহাত প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে বের হচ্ছে না। শিশু, নারী ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন। গ্রামাঞ্চলের নি¤œ আয়ের ও দুস্থ মানুষবিশেষ করে দিনমজুর, ছিন্নমূল ও নদীপাড়ের চর এলাকার বাসিন্দারা পর্যাপ্ত উষ্ণ কাপড় না থাকার কারণে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। শীতার্তরা খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে বাধ্য হচ্ছেন।

গত কয়েকদিন ধরেই এ অঞ্চলে তাপমাত্রা ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যেই ছিল। তবে গতকাল তাপমাত্রা কিছুটা বেড়েছে। রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র রায় জানান, আজ (সোমবার) সর্বনি¤œ তাপমাত্রা ১৩.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।

লালমনিরহাটের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলার হাসপাতালে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সামিরা হোসেন চৌধুরী জানান, তীব্র শীতের কারণে শিশু ও বৃদ্ধদের স্বাস্থ্যঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন বহু শিশু ও বয়স্ক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। প্রধানত সর্দি-জ্বর, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি কিছু শিশুর শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি ও খিঁচুনিও ধরা পড়েছে।

তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি বিবেচনায় কয়েক দিনের জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখা, শিশুদের গরম পানি ও পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ এবং বয়স্কদের জন্য উষ্ণ কাপড় ব্যবহার নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার জানান, ইতোমধ্যে জেলায় কিছু কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। শীতার্ত মানুষের চাহিদা বেশি হওয়ায় অতিরিক্ত ৫০ হাজার কম্বলের জন্য মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, এ খাতে প্রায় ২৪ লাখ টাকার বরাদ্দ প্রাপ্ত হয়েছে এবং শিগগিরই দুর্গম এলাকাগুলোতে কম্বল বিতরণ করা হবে।