গাইবান্ধা সংবাদদাতা: গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নের বুক চিরে বয়ে গেছে কাটাখালী নদী। এ নদীর ছয়ঘরিয়া খেয়াঘাট দিয়ে পারাপারে ১২ গ্রামের মানুষের ভরসা বাঁশের সাঁকো। এখানকার ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা একটি সেতু নির্মাণের দাবি করলে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধির পেয়েছেন প্রতিশ্রুতি। যুগ-যুগ ধরে এই আশ্বাস শুনে আসলেও এখনও বাস্তবায়ন করেনি কেউ! সম্প্রতি ছয়ঘরিয়া খেয়াঘাটে দেখা গেছে- নদী পারাপারে মানুষের দুর্ভোগের দৃশ্য। সবাই এপার-ওপার হচ্ছেন চরম আতঙ্কে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কাটাখালী নদী এখন ১২টি গ্রামের হাজারও মানুষের জন্য এক বড় প্রতিবন্ধকতার নাম। এই নদীর ছয়ঘরিয়া খেয়াঘাটে একটি সেতুর অভাবে যুগ-যুগ ধরে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন উত্তর ছয়ঘরিয়া, পারসুন্দইল, গুচ্ছগ্রাম, মথুরাপুর, সুন্দইল, হঠাৎপাড়া, চড়পাড়া, নয়াপাড়া, চৌরপাড়া, রামনাথপুর ও কানিপাড়ার কয়েক হাজার বাসিন্দা। স্থানীয় জানা যায়, বর্ষা মৌসুমে কাটাখালী নদীর পানি বেড়ে গেলে এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। নদী পারাপারের একমাত্র মাধ্যম তখন ডিঙ্গি নৌকা। ফলে কোমলমতি স্কুলগামী শিশুরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যেতে চায় না, অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকরাও ভয়ে তাদেরকে স্কুলে পাঠাতে চান না। সেইসঙ্গে কোনো রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। অনেক সময় মাইলের পর মাইল রাস্তা ঘুরিয়ে অসুস্থ রোগীকে নিয়ে যেতে হয়। যা অনেক ক্ষেত্রে রোগীর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এমনকি যাতায়াত ব্যবস্থা অনুন্নত হওয়ায় এলাকার ছেলে-মেয়েদের ভালো কোথাও বিয়ে দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগী মেনারুল ইসলাম, সাদা মিয়া ও আলকাছ আলীসহ আরও অনেকে জানান, একটি ব্রিজের অভাবে আমরা আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বারবার প্রতিশ্রুতি পেলেও ব্রিজের দেখা পাইনি।