নান্দাইল (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা: ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের রায়পাশা কালীমন্দিরের নিজস্ব জমি দখল করে সরকারি অর্থায়নে নির্মিত পল্লী মার্কেট ভবন কোন কাজে আসছেনা। নির্মাণের তিন বছর পেরিয়ে গেলেও এর উদ্বোধন করা হয়নি। ফলে প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনটি এখন গো-মূত্রের পায়খানাস্থল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে মন্দিরের জায়গায় জোরপূর্বক নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু তা কোন কাজে না আসায় হিন্দু সম্প্রদায়সহ এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, নান্দাইল উপজেলা স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)’র ১ কোটি ৯০ লাখ ৩৭হাজার ১৭৮ টাকা ব্যয়ে মন্দিরের জায়গায় চারতলা বিশিষ্ট সরকারি পল্লী মার্কেট ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। পরে মন্দিরের সেবায়েত সবায়েত প্রাণতোষ বিশ্বাস আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৯ আগস্ট ময়মনসিংহ জেলার জজ আদালত নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। ওই নিষেধাজ্ঞায় বলা হয়, মন্দিরের জায়গায় সরকারি-বেসরকারি কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা ও বাজার বসানো যাবে না।
এরপরও গত ২৬ ডিসেম্বর/২০২০ সনে স্থানীয় আওয়ামীলীগের সাবেক এমপি আনোয়ারুল আবেদীন খান তুহিনকে দিয়ে ওই ভবন নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করানো হয়। এ বিষয়ে মন্দিরের সেবায়েত প্রাণতোষ বিশ্বাস বলেন, রায়পাশা গ্রামে কালীর বাজারে অবস্থিত মন্দিরটি শতাধিক বছরের পুরোনো। মন্দিরের রয়েছে ১৫২ শতক জমি, যা ধারাবাহিকভাবে সিএস, আরওআর এবং সর্বশেষ বিআরএস জরিপে মন্দিরের নামেই রেকর্ড হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় একটি চক্র মন্দির চত্বরে মন্দিরের জায়গায় পূজা উৎসবের মেলাকে গুরুত্বপূর্ণ বাজার দেখিয়ে প্রশাসনকে দিয়ে পেরিফেরি (বাজারের চৌহদ্দি) ঘোষণা করে ইজারা দিয়ে যাচ্ছে। এরপর থেকেই কালীমন্দিরের জমিতে বাজারের পরিধি বাড়তে থাকলেও ছোট হতে থাকে মন্দিরের পরিধি। একপর্যায়ে সরকারি পল্লী মার্কেট ভবনের নামে দখল করা হয় মন্দিরের সম্পত্তি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম জানান, তদারকির অভাবে ভবনটিতে লাগানো বৈদ্যুতিক তারসহ সকল সরঞ্জাম, মোটর পানির ট্যাঙ্কি সব চুরি হয়ে গেছে। তড়িঘড়ি করে এভাবে মার্কেট নির্মাণের কি দরকার ছিল? পরিচ্ছন্নতা কর্মী শহীদ মিয়া জানান, কেউ খবর রাখেনা বলে ভিতরে পায়খানার কারণে ঢোকা দায়।
নান্দাইল উপজেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের (এলজিইডি) প্রকৌশলী আব্দুল মালেক বিশ^াস জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে তা সরজমিন দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাতেমা জান্নাত বলেন, তিনি এখানে নতুন এসেছেন, তবে খোঁজ নিয়ে বিষয়টি দেখা হবে।