বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজবাড়ী জেলা শাখার উদ্যোগে গতকাল শুক্রবার সকালে স্থানীয় মডেল মসজিদ অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক জনশক্তিদের নিয়ে এক প্রীতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য, জেলা জামায়াতের আমীর, রাজবাড়ী-১ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী এডভোকেট মোঃ নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী মোঃ আলীমুজ্জামান ও সদর উপজেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর অধ্যাপক মোঃ হেলাল উদ্দিন এর সঞ্চালনায় প্রীতি সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির এর সদ্য বিদায়ী কেন্দ্রীয় সভাপতি মোঃ জাহিদুল ইসলাম। তিনি পরবর্তীতে পাংশাতে পৃথক এক প্রীতি সমাবেশেও প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন। রাজবাড়ী শহরে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ফরিদপুর অঞ্চল টিম সদস্য শামসুল ইসলাম আল বরাটি, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য অঞ্চল পরিচালক মোঃ জামাল উদ্দীন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মোঃ হাসমত আলী হাওলাদার, পৌর জামায়াতের আমীর ডাঃ মোঃ হাফিজুর রহমান, সদর উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমীর, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা সাইয়েদ আহাম্মদ খান। অনুষ্ঠানে সাবেক ছাত্র নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মোঃ সোহেল রানা মিঠু, মোঃ হেমায়েত উদ্দীন, ইঞ্জিনিয়ার রইস উদ্দীন প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাহিদুল ইসলাম বলেন, অনেক জীবন, রক্ত আর বহু ত্যাগের বিনিময়ে আমাদের জুলাই এসেছে। এই ফ্যাসিস্ট হাসিনা একদিনে তৈরি হয়নি, যার সূচনা কাল ছিল ২৮ অক্টোবর, লগি-বইঠার তান্ডবের মধ্য দিয়ে যে যাত্রা শুরু করেছিল একে একে বিডিআর হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরে হেফাজত ম্যাসাকার, ইসলামী আন্দোলনের জাতীয় নেতৃবৃন্দকে সাজানো বিচারের মাধ্যমে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে শহীদ করে, ভোটার বিহীন নির্বাচন করে ক্ষমতায় থাকার যে স্বাদ সে পেয়েছিল তার সেই খায়েশ আর প্রতিবেশী আধিপত্যবাদী রাষ্ট্রের নির্লজ্জ সহযোগিতা তাকে এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছিল। আমার দেশের হাজার হাজার ছাত্র জনতার খুনিকে যে আশ্রয় দেয় সে আমার কেমন বন্ধু, জুলাই আন্দোলন পরবর্তী যুবকদের আইকন আমাদের ভাই শরীফ ওসমান হাদীর হত্যাকারীকে যে আশ্রয় দেয় সে আমার কেমন বন্ধু তা এই প্রজন্ম ভালভাবেই বুঝে গেছে আর তাই বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর নির্বাচনে আমাদের ভাই বোনেরা তাদের চিন্তার প্রকাশ করেছে। জেনজি প্রজন্ম কোন তাবেদারী শক্তিকে পরোয়া করে না, তারা আধিপত্যবাদীদের চোখে চোখ রেখে কথা বলতে শিখে গেছে তরুন ও যুবক শ্রেণীর চিন্তার যে বিপ্লব হয়েছে তা আগামী ফেব্রুয়ারীর ১২ তারিখ আমাদেরকে সফলভাবে কাজে লাগাতে হবে। আমাদের প্রত্যেককে জীবনের সর্বোচ্চ ত্যাগ ও কুরবানির নজরানা পেশ করার প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করতে হবে।