ঈদকে সামনে রেখে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলের অধিকাংশ কারখানা ছুটি হওয়ায় ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে মহাসড়কে। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে থেমে থেমে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে পরিবহনগুলোর বিরুদ্ধে।

বুধবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, চন্দ্রা ত্রিমোড়, নবীনগর সড়ক এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে কোথাও যানবাহন দীর্ঘ সময় স্থির, আবার কোথাও ধীরগতিতে চলছে।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কেও যানবাহনের চাপ বেড়েছে। এখনো বড় ধরনের যানজট না হলেও যান চলাচল ধীরগতির। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে।

চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় সকাল থেকেই বাসের অপেক্ষায় শত শত শ্রমিককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও যানবাহন পাচ্ছেন না।

ময়মনসিংহগামী এক শ্রমিক বলেন, ‘দুই ঘণ্টা ধরে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। আগে যেখানে ৫০০-৬০০ টাকায় তিনজন যেতে পারতাম, এখন ১ হাজার ৫০০ টাকা চাচ্ছে। আমাদের জন্য এটা খুব কষ্টকর।’

শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার গাজীপুরে প্রায় ২ হাজার কারখানা ছুটি হয়েছে, যার বেশিরভাগই দুপুর ১২টার দিকে। ছুটি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শ্রমিকরা বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ায় মহাসড়কে যাত্রীর চাপ কয়েকগুণ বেড়েছে। এই চাপ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত থাকতে পারে।

কোনাবাড়ী নাওজোর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সওগাতুল আলম বলেন, যাত্রীর চাপ বেড়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক চন্দ্রা এলাকা পরিদর্শন করে জানান, ভাড়া বাড়ানোর বিষয়টি নজরদারিতে রাখা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।