বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল, খুলনা-৫ আসনের (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা দলগুলো চরিত্র, সততা ও নৈতিকতার পরীক্ষায় বারবার ব্যর্থ হয়েছে। একই দলগুলোকে আবার ক্ষমতায় বসালে দেশে শোষণ, দমন-পীড়ন ও দুর্নীতিরই পুনরাবৃত্তি ঘটবে। তাই ব্যর্থ শাসনের ধারাবাহিকতা ভেঙে মৌলিক পরিবর্তনের পক্ষে দাঁড়ানো ছাড়া জাতির সামনে আর কোনো বিকল্প নেই। তিনি আরও বলেন, আবেগ দিয়ে নয়, বিবেক দিয়ে সিদ্ধান্ত নিন। সত্যকে সত্য বলার সাহস না থাকলে নতুন বাংলাদেশ গড়া যাবে না। স্বাধীনতার পর থেকে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির দীর্ঘ শাসনামলের কঠোর সমালোচনা করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, কোনো দলই দাবি করতে পারে না যে তাদের শাসনামলে দুর্নীতি হয়নি বা ভিন্নমতের ওপর দমন চালানো হয়নি। “ক্ষমতায় গেলে সবাই ক্ষমতার দাম্ভিকতায় ভুগেছে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করেছে এবং বিচারব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিল খুলনার উদ্যোগে খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির আইনজীবীদের সাথে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনার ৬টি আসনের প্রার্থীদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন।

গতকাল বুধবার দুপুর ২টায় খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির হল রুমে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমীর খুলনা-৪ আসনের (রূপসা-তেরখাদা-দিঘলিয়া) দেয়াল ঘড়ি প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য, খুলনা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক খুলনা-৬ আসনের (কয়রা-পাইকগাছা) দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য, খুলনা মহানগরী আমীর, খুলনা-৩ আসনের (খালিশপুর-দৌলতপুর-খানজাহান আলী) দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য, খুলনা মহানগরী সেক্রেটারি ও খুলনা-২ আসনের (খুলনা সদর-সোনাডাঙ্গা) দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল, খুলনা-১ আসনের (দাকোপ-বটিয়াঘাটা) দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী বাবু কৃষ্ণ নন্দী। বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিল এর কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এডভোকেট লস্কর শাহ আলমের সভাপতিত্বে ও এডভোকেট মনিরুল ইসলাম পান্না, এডভোকেট আওসাফুর রহমান ও এডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লার পরিচালনায় মতবিনিময় সভায় অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাস্টার শফিকুল আলম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও খুলনা জেলা আমীর মাওলানা ইমরান হুসাইন, জেলা নায়েবে আমীর মাওলানা গোলাম সরোয়ার ও অধ্যক্ষ মাওলানা কবিরুল ইসলাম, মহানগরী নায়েবে আমীর অধ্যাপক নজিবুর রহমান, জেলা সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, মহানগরী সহকারী প্রিন্সিপাল শেখ জাহাঙ্গীর আলম ও আজিজুল ইসলাম ফারাজী, বটিয়াঘাটা উপজেলা আমীর মাওলানা শেখ মোহাম্মদ আবু ইউসুফ, সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট আনছার উদ্দিন, এডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান, এডভোকেট লিয়াকত আলী সরদার, এডভোকেট শফিকুল ইসলাম লিটন, এডভোকেট আবুল খায়ের, এডভোকেট শেখ জাকিরুল ইসলাম, খেলাফত মজলিসের মহানগরী সেক্রেটারি এডভোকেট শহিদুল ইসলাম, জাতীয় নাগরিক পার্টির এডভোকেট নিহিত কান্তি ঘোষ, এডভোকেট মমিনুজ্জামান টুলু, এডভোকেট আব্দুল মান্নান, এডভোকেট সেলিম আল আজাদ, এডভোকেট জি এম মহেদুর রহমান, এডভোকেট শহিদুল ইসলাম, এডভোকেট সুজায়েত হোসেন সুজা, এডভোকেট আব্দুল লতিফ (কর), এডভোকেট শামসুল হক, এডভোকেট শামিমুল ইসলাম (সাদা শামিম), এডভোকেট মঈনুল ইসলাম জীবন, এডভোকেট কামাল হোসেন, এডভোকেট আলীনুর রহমান সানোর, এডভোকেট মাসুদুর রহমান, এডভোকেট আবু মুসা, এডভোকেট জামাল উদ্দিন, এডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন, এডভোকেট সেখ সেলিম, এডভোকেট লুৎফার রহমান প্রমুখ।

সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, খুনি, ধর্ষক ও দাগি আসামীরা জামিন পেয়ে যায়, অথচ রাজনৈতিক ভিন্নমতের মানুষ মিথ্যা মামলায় বছরের পর বছর হয়রানির শিকার হয় এটাই গত ৫৪ বছরের বাস্তবতা। এ অবস্থায় আবার সেই দলগুলোকেই ক্ষমতায় বসালে যে লাউ, সেই কদু ছাড়া কিছুই হবে না মন্তব্য করেন তিনি।

সংখ্যালঘু নির্যাতন ইস্যুতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নির্যাতনের ঘটনাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। জামায়াতের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগকে তিনি ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, “জামায়াতে ইসলামী বা ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে একটি প্রমাণ দেখাতে পারলে আমি প্রকাশ্যে দায় নেব। বছরের পর বছর যাদের ভোট দেওয়া হয়েছে, বাস্তবে তারাই জমি দখল, বাড়ি দখল ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, বাংলাদেশে কোনো মেজরিটি বা মাইনোরিটি নেই। ধর্ম, বর্ণ বা পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে ছোট করার অধিকার কারও নেই। এই দেশে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবার অধিকার সমান। সংখ্যালঘু শব্দটি ব্যবহার করেই মানুষকে দুর্বল করা হয়।

জুলাই অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াতের এই সাবেক এমপি বলেন, ওই গণঅভ্যুত্থানের মূল দাবি ছিল ন্যায়বিচার ও পরিবর্তন। উই ওয়ান্ট জাস্টিস এই স্লোগান কোনো ফাঁকা কথা নয়। এর মানে হচ্ছে এমন রাষ্ট্রব্যবস্থা, যেখানে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে থাকবে না।

প্রস্তাবিত গণভোট ও রাষ্ট্র সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নতুন কাঠামো বাস্তবায়িত হলে কোনো প্রধানমন্ত্রী বা সরকার প্রধান অসীম ক্ষমতার মালিক হতে পারবে না। ক্ষমতার মেয়াদ সীমিত থাকবে, বিচার বিভাগ ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণমুক্ত হবে এবং জবাবদিহিতা বাধ্যতামূলক হবে। এই সংস্কার না হলে ফ্যাসিবাদ আবার ফিরে আসবে, হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

তবে শুধু কাঠামো বদলালেই রাষ্ট্র ঠিক হবে না এ কথা জোর দিয়ে উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় সৎ ও নৈতিক মানুষ প্রয়োজন। আইনের বেড়াজাল যত শক্তই হোক, আল্লাহর ভয় না থাকলে মানুষ সুযোগ পেলে দুর্নীতি করবেই, বলেন তিনি।

তিনি বলেন, যারা ৫৪ বছরে চরিত্র, সততা ও নৈতিকতার পরীক্ষায় ফেল করেছে, তাদের হাতে নতুন বাংলাদেশের দায়িত্ব দেওয়া আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে। এই ব্যর্থ শক্তিগুলোকে আবার ক্ষমতায় আনলে দেশকে আবার রক্ত দিতে হবে, আবার আন্দোলনে নামতে হবে, বলেন তিনি।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও গণভোটকে ঐতিহাসিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ভোটের মধ্য দিয়েই নির্ধারিত হবে দেশ কোন পথে যাবে, না কি পুরনো ব্যর্থতার চক্রেই ঘুরপাক খাবে। পরিবর্তন চাইলে সাহসী সিদ্ধান্ত নিন। অন্যথায় দায় ইতিহাস ক্ষমা করবে না, বলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।