স্বাধীন সাংবাদিকতা দেশের কল্যাণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এতে বরং সরকারের লাভ হবে, কারণ স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান একমাত্র সরকারকে সত্য বলতে পারে। কেউ কারও বিরোধী নয়, সবাই সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পক্ষে। তাই সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পথ মুক্ত রাখা জরুরি। সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্যের অভাব আছে। মালিক, সম্পাদক ও সাংবাদিক সবাই যদি ঐক্যবদ্ধ হয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যায়Ñ তাহলে সংবাদপত্রের ভূমিকা, সাংবাদিকের উন্নয়ন এবং সংবাদপত্রের উন্নয়ন সম্ভব বলে মনে করেন বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রকাশক, সম্পাদক এবং সাংবাদিকরা।
গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের (কেআইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত গণমাধ্যম সম্মিলনে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদপত্রের মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) ও সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদ যৌথভাবে এ সম্মিলনের আয়োজন করে। সাংবাদিকদের উদ্দেশে দৈনিক যায়যায়দিনের সম্পাদক শফিক রেহমান বলেন, আপনারা বিকল্প কোনো পেশারও ব্যবস্থা করুন। আমাকে যদি আজকে বিতাড়ন করা হয়, যেমন আগে বহুবার করা হয়েছিল...।
এরশাদের আমলেও হয়েছি, হাসিনার আমলেও হয়েছি। তবে আমি জানতাম যে, আমি বিশ্বের যেখানেই যাই না কেন, চাটার্ড অ্যাকাউন্ট হিসেবে আমি একটা কাজ পাবোই, পেয়েছিও। যে কারও বিরুদ্ধে লেখার স্বাধীনতা অর্জন করতে হবে। সাংবাদিকতার ওপর নির্ভর করলে একদিন আপনি ‘দালাল’ নামে অভিযুক্ত হতে পারেন।
তিনি বলেন, সাংবাদিকদের ‘দালাল’ বললে আমার খুব দুঃখ লাগে। বলবেই বা না কেন? কিছুদিন আগে যারা আওয়ামী লীগের পক্ষে ছিল, তারা এখন বিএনপির হয়ে গেছে। এটা একটা অদ্ভূত ব্যাপার না? এই ম্যাজিকের পাল্লায় পড়বেন না। এতে সম্মান বাড়ে না। বরং কমে যায়। নিউ এজ পত্রিকার সম্পাদক নূরুল কবীর বলেন, একটি দেশের গণমাধ্যমের বিকাশ জাতীয় অগ্রগতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। গণমাধ্যম সঠিকভাবে কাজ করতে না পারলে সমাজের বিভিন্ন অধিকার বাধাগ্রস্ত হয়।
এ জন্য সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার এবং বৃহত্তর সামাজিক সংগ্রামে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘স্বাধীন সাংবাদিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণমাধ্যম না থাকলে সত্য বলার কেউ থাকে না। স্বাধীন সাংবাদিকতাকে সমর্থন করা শেষ পর্যন্ত সমাজেরই উপকারে আসে। কালের কণ্ঠ সম্পাদক ও জাতীয় প্রেসক্লাব সভাপতি হাসান হাফিজ সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর হামলার সমালোচনা করেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ন্যায়বিচারের দাবি জানান।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ‘সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্যই এখন সময়ের সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন। বিভাজন কাটিয়ে উঠতে ব্যর্থ হলে সাংবাদিকরা ব্যক্তিগতভাবে হামলার শিকার হতে পারেন।’
প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, ‘সব সরকারের আমলেই গণমাধ্যমের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।’ এ ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সাংবাদিকদের সংহতি ও ঐক্য অপরিহার্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।