চট্টগ্রাম নগরীর জামালখানের আসকারদীঘির পাড় এলাকায় সংরক্ষিত পাহাড় কেটে অবৈধভাবে বহুতল ভবন নির্মাণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেওয়া হলেও, প্রভাবশালী একটি চক্রের সহায়তায় গোপনে আবারও কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ১২৭ ফুট উচ্চতার একটি পাহাড় কেটে সেখানে ১৭ তলা বিশিষ্ট তিনটি টাওয়ার নির্মাণ করা হচ্ছে, যেখানে মোট ৯২টি ফ্ল্যাট তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব ফ্ল্যাট প্রায় ২০০ কোটি টাকায় বিক্রির প্রস্তুতিও চলছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, পরিবেশ অধিদপ্তর, সিটি কর্পোরেশন ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)-এর প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই শুরু হয় এ নির্মাণ কার্যক্রম। প্রশাসন মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে কাজ বন্ধ করলেও, অল্প সময়ের ব্যবধানে তা আবার শুরু হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আসকারদীঘির পূর্বপাড়ের পাহাড়টি সরকারি নথিতে ‘বাড়ি’ শ্রেণির জমি হিসেবে রেকর্ড থাকলেও বাস্তবে এটি একটি পাহাড়ি এলাকা। ২০১৯ সালে প্রায় ১০ কোটি টাকায় জমিটি ক্রয় করেন ৯২ জন অংশীদার। পরবর্তীতে বিভিন্ন শর্তসাপেক্ষে তিনটি বহুতল ভবন নির্মাণের অনুমোদন নেওয়া হয়। তবে এসব শর্তের অন্যতম ছিল পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র গ্রহণ, যা এখনো নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
নথিপত্র পর্যালোচনায় জানা যায়, ২০২০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বিভিন্ন ধাপে নগর উন্নয়ন কমিটি, ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র কমিটি ও ইমারত নির্মাণ কমিটি থেকে অনুমোদন নেওয়া হয়। এসব অনুমোদনে মোট ৮৬টি শর্ত দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে সেই শর্তগুলোর অনেকই মানা হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।
২০১০ সালের সংশোধিত পরিবেশ আইনে পাহাড় কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়া ২০০৮ সালের ইমারত নির্মাণ আইন ও সিডিএর ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) অনুযায়ী, এ ধরনের পাহাড়ি এলাকায় বহুতল ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়ার কথা নয়। তবুও ১৭ তলা ভবনের অনুমোদন কীভাবে দেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
এ বিষয়ে জমির মালিকদের একজন খোকন ধর বলেন, “আমরা কয়েকজন অংশীদার মিলে জমিটি কিনেছি। কিছু কাগজপত্রের ঘাটতি ছিল, সেগুলো ঠিক করার চেষ্টা চলছে। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের কারণে কাজ বিলম্বিত হয়েছে।”
পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিচালক সোনিয়া সুলতানা বলেন, “পাহাড় কেটে ভবন নির্মাণের বিষয়ে বিভিন্নভাবে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) অথরাইজড অফিসার তানজীব হোসেন জানান, “তথ্য গোপন করে অনুমোদন নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এর আগে সিটি কর্পোরেশন অভিযান চালিয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছিল বলে শুনেছি।”