ঐতিহাসিক বদর দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সাতক্ষীরা শহর শাখার উদ্যোগে এক বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শহর সভাপতি মেহেদি হোসেনের সভাপতিত্বে ওসেক্রেটারি নুরুন নবীর সঞ্চালনায় "বদর দিবসের গুরুত্ব ও আমাদের জন্য শিক্ষণীয় দিক" শীর্ষক এই সেমিনারে বক্তারা বদর যুদ্ধের তাৎপর্য ও বর্তমান প্রেক্ষাপটে এর শিক্ষা নিয়ে আলোচনা করেন।
৭ মার্চ সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা আল আমিন ট্রাস্টের কাজী শাহসুর রহমান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সেমিনারটি পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত ও ইসলামী সংগীতের মাধ্যমে শুরু হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির কেন্দ্রীয় নির্বাহি পরিষদের অন্যতম সদস্য সাতক্ষীরা ১ তালা কলারোয়া আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহা: ইজ্জত উল্লাহ।
তিনি বলেন, "বদরের যুদ্ধ কেবল একটি সামরিক বিজয় ছিল না, বরং এটি ছিল ঈমান, ত্যাগ ও আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থার এক অনন্য পরীক্ষা। মাত্র ৩১৩ জন সাহাবির বিপরীতে হাজারো অস্ত্রসজ্জিত কুরাইশ বাহিনীর বিরুদ্ধে সংঘটিত এই যুদ্ধে ঈমানের শক্তি ও আত্মত্যাগের মাধ্যেমে বিজয় অর্জিত হয়েছিল। বর্তমান সময়েও আমাদের সেই চেতনা থেকে শিক্ষা নিতে হবে।"
সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাতক্ষীরা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল বলেন, "বদর ছিল ইসলামের প্রথম ও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ, যা ইসলামের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। এই যুদ্ধ আমাদের শেখায় কীভাবে ঈমান, একতা ও আল্লাহর ওপর নির্ভরশীলতা যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলায় শক্তি দিতে পারে।"
সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ড. রুহুল আমিন। তিনি বদরের শিক্ষাকে বর্তমান প্রেক্ষাপটে তুলে ধরে বলেন, "আজকের মুসলিম উম্মাহর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের বদরের সাহাবিদের মতো সাহসী, আত্মনিবেদিত ও আদর্শবান হতে হবে। সমাজে ন্যায়বিচার ও ইসলামের শাশ্বত আদর্শ প্রতিষ্ঠায় আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।"
সেমিনারের শেষে বদরের বীর শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় এবং দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সাতক্ষীরা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী অধ্যাপক ওমর ফারুক, হাবিবুর রহমান প্রমুখ।