গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরে ফেরার পথে করমজল খালে কুমিরের আক্রমণে মৃত্যু সুব্রত মন্ডলের স্ত্রী মুন্নী খাঁ (মুন) একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। নবজাতককে নিয়ে ২৫ বছর বয়সী মুন্নী নিজের নানি অপর্ণা পাটোয়ারীর বাড়িতেই আছেন। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে নানীর বাড়িতেই থাকছেন তিনি।

মুন জানান, সুব্রত মন্ডল দাকোপ উপজেলার পূর্ব ঢাংমারী এলাকার কুমুদ মন্ডলের ছেলে। মুনের নানীবাড়িও একই এলাকায়। গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীর দিন সকালে ঘর থেকে বেরিয়েছিলেন সুব্রত। ঘরে তখন টাকার টানাটানি, মুন অসুস্থ, তবু কাঁকড়া ধরতে বনে যেতেই হয়েছিল তাকে।

সেদিনও অন্য দিনের মতো সঙ্গীদের নিয়ে বনে গিয়েছিলেন সুব্রত। সুব্রতদের বাড়ি থেকে সুন্দরবনের করমজল খালের দূরত্ব খুব বেশি নয়, দুই কিলোমিটারের মতো। ফেরার পথে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের করমজল খাল সাঁতরে পার হওয়ার সময় কুমির আক্রমণ করে তাকে। প্রায় সাত ঘণ্টা পর করমজল খালের গজালমারী এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

মুন বলেন, “স্বামীর মৃত্যুর সময় তিনি প্রায় চার মাসের অন্তঃসত্তা¡ ছিলেন। ঈদের আগের দিবাগত রাতে তিনি একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। ২৩ মার্চ ছেলেকে নিয়ে নানী অপর্ণা পাটোয়ারীর বাড়িতেই ফিরেছেন। তিনি এবং নবজাতক দু’জনেই সুস্থ আছেন। সাত বছরের অপেক্ষার পর ঘরে সন্তান এল। কিন্তু বাবা হওয়ার আনন্দের এই সংবাদ যার সবচেয়ে আগে শোনার কথা, তিনি তখন আর নেই। আমার ছেলেটাও ওর বাবার মুখটা দেখতে পেল না। ’জঙ্গল’ সব সময়ই বিপৎসংকুল। আমি চাই আমার সন্তান বাদাবনে না যাক; লেখাপড়া শিখুক। বাপ-দাদার পেশায় না আসুক।”

এ ব্যাপারে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, “সুব্রত মন্ডল সুন্দরবনে বৈধভাবে কাঁকড়া আহরণ করতে গিয়েছিলেন। তার পরিবারকে সরকারি সহায়তার তিন লাখ টাকার চেক প্রদান করা হয়েছে। তবে বৈধ পাস পারমিট (অনুমতি) ছাড়া কেউ সুন্দরবনে প্রবেশ করে দুর্ঘটনায় পড়লে পরিবার ওই সহায়তা পাবে না।”