বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হারিয়েছে বহু মূল্যবান প্রাণী, গাছ ও মাছের প্রজাতি। নানা কারণে অনেক প্রজাতির অস্তিত্ব আজ বিলুপ্ত কিংবা বিলুপ্তির মুখে, যার সুনির্দিষ্ট তথ্যও অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কাছে সংরক্ষিত নেই। এই বাস্তবতায় সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে তথ্য সংরক্ষণ ও জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে বনবিভাগ একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে।

বাংলাদেশ অংশের প্রায় ৬,৫০০ বর্গকিলোমিটার বিস্তৃত সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী ও বৃক্ষরাজির তথ্য সংরক্ষণের জন্য পূর্ব সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের পাশে স্থাপন করা হয়েছে একটি ইন্টারপ্রিটেশন ও ইনফরমেশন সেন্টার। এই কেন্দ্রটি দেশি-বিদেশি পর্যটক, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা নেওয়ার একটি কার্যকর স্থান হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কেন্দ্রটিতে মৃত বাঘ, কুমিরসহ বিভিন্ন প্রাণীর কঙ্কাল (স্কেলেটন), চামড়া ও দেহাবশেষ সংরক্ষণ করা হয়েছে। প্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, বিরল ও বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির এসব দেহাবশেষ সংরক্ষণের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার উপকরণ তৈরি হবে। একই সঙ্গে দর্শনার্থীরা বাস্তব উদাহরণের মাধ্যমে বুঝতে পারবেন সুন্দরবনের প্রকৃত জীববৈচিত্র্য কী এবং কোন কোন প্রজাতি বর্তমানে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির জানান, অনেক মানুষ সুন্দরবনে আসার আগে কল্পনায় হাতি বা ভাল্লুক দেখার প্রত্যাশা করেন। কিন্তু সুন্দরবনের বাস্তব জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকায় তারা অনেক সময় হতাশ হন। তিনি বলেন, বনে প্রবেশের আগে যদি দর্শনার্থীরা তথ্যকেন্দ্র থেকে ধারণা নেন, তাহলে তারা বুঝতে পারবেন সুন্দরবনে কী কী প্রাণী রয়েছে, কোনগুলো বিরল এবং কোনগুলো হুমকির মুখে। তিনি আরও জানান, এখানে সংরক্ষিত বাঘের পূর্ণ কঙ্কালটি বাংলাদেশে এই ধরনের প্রথম উদ্যোগ, পাশাপাশি কুমিরের চামড়া, বাঘ ও হরিণের চামড়াসহ বিভিন্ন নমুনা সংরক্ষণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে সুন্দরবনের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ বন্যপ্রাণীর তথ্য ও নমুনা এই কেন্দ্রে সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে।