জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেছেন, হাজার ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে দেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছে। একটি প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক সরকার যাত্রা করলেও জনগণের আশা আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটছেনা। ক্ষমতাসীন সরকার গণভোট অধ্যাদেশকে বাতিল, জুলাই সনদ ও সংস্কার প্রক্রিয়াকে উপেক্ষার মাধ্যমে জনগণকে ধোকা দিতে চায়। যা চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাথে প্রতারণার শামিল। এর পরিনতি সরকারের জন্য মঙ্গলজনক হবেনা।
তিনি বলেন, গত জাতীয় নির্বাচনে গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন, তারা সংস্কার চান। ফলে সংবিধান পরিবর্তন ও সংশোধন জাতির অনিবার্য দাবি। কিন্তু সরকার মানুষের সেই আকাক্সক্ষার বাস্তবায়ন নিয়ে গড়িমসি করছে। কতিপয় মন্ত্রী-এমপি জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে নিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করছেন। অথচ বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারী দলসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সকল দল মিলেই জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছেন। এখন জুলাই সনদকে উপেক্ষা করার ষড়যন্ত্র হলে ছাত্র-জনতা ফের রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।
গত সোমবার বিকেলে সিলেট মহানগরীর শাহপরান পশ্চিম থানা জামায়াতের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
থানা আমীর মো. শাহেদ আলী সভাপতিত্বে ও সক্রেটারি নজরুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে, বক্তব্য রাখেন থানা নায়েবে আমীর মো আব্দুর রব, সহকারী সেক্রেটারি সাবেক কাউন্সিলার সোহেল আহমদ রিপন, জামায়াত নেতা এডভোকেট আব্দুল আহাদ সিদ্দিকী, জাবেদ আহমদ, আহমদ আল মাসউদ, শ্রমিক নেতা আক্কাস আলী, আব্দুল হালিম, ওমর ফারুক ইমন, সালেহ আহমদ ও আশরাফুজ্জামান প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম আরো বলেন, মানবতার কল্যাণ সাধন করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করাই জামায়াতের মূল লক্ষ্য। পতিত ফ্যাসিবাদী সরকার সীমাহীন জুলুম-নিপীড়ন চালিয়েও আমাদের অগ্রযাত্রা দমিয়ে রাখতে পারেনি। এদেশে আর কোন ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠা হতে দেয়া হবেনা। কুরআন নাযিলের মাস মাহে রমজান ও পবিত্র ঈদুল ফিতর আমাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়েছে। এর শিক্ষাকে ধরে রাখতে হবে। ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের আর্ত মানবতার কল্যাণে আত্মনিয়োগ করতে হবে।