বাগাতিপাড়া (নাটোর) সংবাদদাতা: নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার সান্যালপাড়া গ্রামের দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা প্রতিভাবান হকি খেলোয়াড় কনা আক্তারের পাশে দাঁড়িয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আলাউদ্দিন।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেরা পরিষদ চত্বরে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মানবিক সহায়তা (জিআর) প্রকল্পের আওত্তায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) মোহাম্মদ আলাউদ্দিন হকি খেলোয়াড় কনার এই সংগ্রাম ও সাফল্যের কথা জানতে পেরে কনার অসচ্ছল পরিবারের জন্য ৩ বান্ডিল ঢেউটিন এবং নগদ ৯ হাজার টাকার একটি চেক প্রদান করেন।
এ সময় তিনি বলেন, কনার মত সংগ্রামী ও প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা আমাদের গর্ব।রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব তাদের পাশে দাঁড়ানোর, যাতে তারা নির্বিঘ্নে তাদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পায়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান।
জানা যায়,অভাব-অনটনের মাঝেও কঠোর পরিশ্রম ও দৃঢ় মনোবলের মাধ্যমে কনা জাতীয় পর্যায়ের একজন পরিচিত হকি খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। কনার বাবা আবু বক্কর একজন দিনমজুর। সীমিত আয়ে ছয় সদস্যের সংসার চালানোই যেখানে কষ্টসাধ্য।সেখানে বাড়ি ঘর মেরামত করা দুঃসাধ্য। কনা ২০২১ সালে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)-তে ভর্তি হওয়ার মাত্র দুই বছরের মধ্যেই কনা অনূর্ধ্ব-২১ দলের হয়ে এশিয়ান হকি ফেডারেশন (এএইচএফ) কাপ জুনিয়র টুর্নামেন্টে অংশ নিতে দেশের বাইরে যায়।
এরপর ২০২৪ সালে সিঙ্গাপুর ও ওমানে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে আরও দুইবার বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে সে।সবশেষ ২০২৫ সালে চীনের দাজহুতে অনুষ্ঠিত অনুর্ধ্ব-১৮ এশিয়া কাপ হকিতে অংশ নেয় বাংলাদেশ দল। ওই দলে জায়গা করে নেয় কনাও। টুর্নামেন্টে ৭টি ম্যাচে অংশ নিয়ে সে ২টি ম্যাচে ‘ম্যান অব দ্য প্লেয়ার’ নির্বাচিত হয়। দলের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হয়েও তার এই সাফল্য প্রশংসিত হয়েছে সর্বত্র।
স্থানীয়রা ও কনার পরিবার প্রশাসনের এমন মানবিক উদ্যোগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।