শীতের তীব্রতা ও কনকনে বাতাস উপেক্ষা করেই রাজধানীর শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই বিপ্লবী শরীফ ওসমান বিন হাদী হত্যার বিচারের দাবিতে ব্যাপক জনসমাগম লক্ষ্য করা গেছে। সোমবার দুপুর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এসে জড়ো হতে থাকেন। শীতের কারণে অনেকের গায়ে মোটা কাপড়, মাথায় টুপি ও গলায় মাফলার দেখা গেলেও উপস্থিতির সংখ্যায় কোনো প্রভাব পড়েনি। অংশগ্রহণকারীরা জানান, আবহাওয়া প্রতিকূল হলেও তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতা নিয়েই তারা এসেছেন। শীত বা বাতাস কোনো বাধা নয় বলে জানান অনেকেই। গত শুক্রবার থেকে প্রতিদিন শাহবাগ মোড়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে ইনকিলাব মঞ্চ।
শাহবাগ মোড়ের চারপাশের রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে অবস্থান নেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা। একটু পর পর তারা হাদী হত্যার বিচার চেয়ে স্লোগান দিচ্ছেন। কেউ মাথায়, কেউ হাতে বেঁধেছেন জাতীয় পতাকা। চলছে কবিতা আবৃত্তি ও হাদীকে নিয়ে তৈরি গান গাইছেন কেউ কেউ।
এ সময় মঞ্চের নেতাকর্মীরা ‘আপস না বিপ্লব, বিপ্লব বিপ্লব; আমরা সবাই হাদী হব, যুগে যুগে লড়ে যাব; শাহবাগ না ইনসাফ, ইনসাফ ইনসাফ; জান দিয়েছে হাদী ভাই, জুলাই কিন্তু বেঁচে নাই; বিচার বিচার চাই, হাদী হত্যার বিচার চাই; যেই হাদী জনতার, সেই হাদী মরে না; বাংলাদেশের আজাদি, ওসমান হাদী; সুশীলতার দিন শেষ, বিচার চাই বাংলাদেশ’ প্রভৃতি স্লোগান দিচ্ছেন।
ইনকিলাব মঞ্চের চার দফা হলো, ১) খুনি, খুনের পরিকল্পনাকারী, খুনের সহায়তাকারী, পলায়নে সহযোগী, আশ্রয়দাতাসহ পুরো খুনি চক্রের আগামী ২৪ দিনের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করতে হবে। ২) বাংলাদেশে অবস্থানরত সব ভারতীয়ের ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করতে হবে। ৩) ভারত তার অভ্যন্তরে আশ্রয় নেওয়া সব খুনিকে ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানালে ভারতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা দায়ের করতে হবে। ৪) সিভিল মিলিটারি ইন্টেলিজেন্সের মধ্যে ঘাপটি মেরে লুকিয়ে থাকা ফ্যাসিস্টের দোসরদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার ও বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
এদিকে শহীদ শরিফ ওসমান হাদীর মতো যোগ্যতাসম্পন্ন না হয়ে ওঠা পর্যন্ত ইনকিলাব মঞ্চের কেউ ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচনে প্রার্থী হবেন না বলে জানিয়েছেন প্ল্যাটফর্মটির সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। তিনি বলেন, ‘কোনো সিমপ্যাথি (সহানুভূতি) নিয়ে আমরা নির্বাচনে দাঁড়াইতে চাই না। ইনকিলাব মঞ্চ কোনো দিন সিমপ্যাথির রাজনীতি করবে না। এটার নিশ্চয়তা দিচ্ছি। আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, অনেকেই ঢাকা-৮ আসনে ইনকিলাব মঞ্চের কেউ যাতে নির্বাচন করে, সেই অনুরোধ করছেন। ইনকিলাব মঞ্চ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটি একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলন ও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টিকারী সংগঠন। শহীদ ওসমান হাদী ইনকিলাব মঞ্চ থেকে নির্বাচনে অংশ নেননি। তিনি একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন। আমরা কয়েকজন তার পক্ষে দাঁড়িয়েছিলাম। শহীদ ওসমান হাদীর ইনকলাব মঞ্চ কোনো দিন ক্ষমতার কাছে নিজেকে বর্গা দেবে না। কোনো দিন ক্ষমতার মুখাপেক্ষী হবে না।
তিনি বলেন, ওসমান হাদী রাজনীতি করতে আসেননি। আগামী দিনে বাংলাদেশের রাজনীতি কেমন হবে, সেটা বিনির্মাণ করতে এসেছিলেন। আগামী দিনেও বাংলাদেশের রাজনীতি কেমন হবে, তার রূপরেখা ঠিক করে দেবে ইনকিলাব মঞ্চ।
আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, যারা খুনিদের জামিন করিয়েছে কিংবা টক শোতে গিয়ে শহীদ ওসমান হাদীকে গিনিপিগ বলে হেয় করেছেÑতাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দলটি কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আপনি জানাযায় আসবেন, কিন্তু বহিষ্কার করবেন নাÑতা হতে পারে না। কবর জিয়ারত করবেন, কিন্তু দায় নেবেন নাÑতা হতে পারে না।
উপদেষ্টাদের উদ্দেশে আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, ওসমান হাদী খুনের সঙ্গে যে রাঘববোয়ালরা জড়িত, তাদের নাম প্রকাশ করুন। জনগণ আপনাদের পাহারা দেবে। আর যদি কোনোভাবে রাঘববোয়ালদের সঙ্গে সমঝোতায় আসেন, আপনারা ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবেন না।
আইন উপদেষ্টার সমালোচনা করে আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, গতকালকেও আমরা দেখেছি জুলাইয়ের আসামীদের জামিন দেওয়া হয়েছে। মাননীয় আইন উপদেষ্টা আপনার কাছে জানতে চাই- আপনি কোনোভাবে দায় এড়াতে পারেন না। আইন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরাসরি রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত থাকে। আপনারা দায় এড়াতে পারেন না।