রাজশাহীতে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) আওতায় পরিচালিত মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের শিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত ইমাম, মুয়াজ্জিন ও আলেম-ওলামারা। গতকাল রোববার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে তারা এই বিক্ষোভ করেন। এরপর ঈদের আগেই বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং জনবল আউটসোর্সিংয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের দাবিতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর একটি স্মারকলিপি দেয়া হয়। মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষক কেয়ারটেকার ঐক্যপরিষদ, রাজশাহীর ব্যানারে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সমাবেশে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের ফিল্ড সুপারভাইজার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ১৯৯৩ সাল থেকে প্রকল্পের মাধ্যমে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম চলছে। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে। কিন্তু এখনো মেয়াদ বাড়ানো হয়নি। তবে এই তিন মাস ধরেও শিক্ষকেরা শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। তারা মাত্র ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা সম্মানি পান। এ টাকায় সংসার চালানো কষ্টকর। সেই টাকাও তিন মাস ধরে পাননি শিক্ষকেরা। এই রমযানে যখন তাদের ইবাদত-বন্দেগিতে সময় পার করার কথা, তখন সামান্য বেতনের জন্য তাদের আন্দোলনে আসতে হচ্ছে। আরেক ফিল্ড সুপারভাইজার মোস্তাক আহমেদ বলেন, সম্প্রতি তারা জেনেছেন যে শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম আর প্রকল্পের মাধ্যমে চলবে না। ঠিকাদারের মাধ্যমে আউটসোর্সিংয়ে জনবল নেয়া হবে। এটা হলে যারা বছরের পর বছর শিক্ষকতা করছেন, তারা চাকরি হারাবেন। তারা এই সিদ্ধান্ত বাতিল চান। তাদের চাকরি রাজস্ব খাতে নেয়ার দাবি জানান তিনি। কর্মসূচিতে রাজশাহী জেলা ও মহানগর এলাকায় মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের শিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত প্রায় ১ হাজার ৩০০ ইমাম, মুয়াজ্জিন ও আলেম-ওলামা অংশ নেন।
বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির মামলা : রাজশাহীর পবা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী হোসেনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গত শুক্রবার রাতে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) কাটাখালি থানায় তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পারিলা গ্রামের মৃত ইব্রাহিম আলীর ছেলে আব্দুল কুদ্দুস দীর্ঘদিন ধরে আশরাফের মোড় দিয়ে মালবাহী যান চালাচ্ছিলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কাটাখালি থানার রনহাট গ্রামের মো. আলী হোসেন, তার ছেলে মো. আকাশ (২৭) ও নলখোলা গ্রামের মো. শাহীন (২২) গাড়ি আটকে দেন। অভিযোগে বলা হয়, তারা আব্দুল কুদ্দুসের কাছে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং না দিলে হামলা ও মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার হুমকি দেন। চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি, ৪ মার্চ ও ১৩ মার্চ তিন দফায় ১০ হাজার করে মোট ৩০ হাজার টাকা চাঁদা নেয়া হয়। এছাড়া প্রতিদিন প্রতিটি গাড়ি থেকে ১০০ টাকা করে চাঁদা আদায়
করা হচ্ছিল।