ফেনীর পরশুরাম উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের নিজ কালিকাপুর গ্রামের সীমান্তবর্তী বল্লামুখা বাঁধ থেকে প্রকাশ্যেই বালু, মাটি নিয়ে যাচ্ছে দুর্বৃত্তরা ।যে বাঁধ কেটে দিয়েছিল ভারতীয় বিএসএফ। ফলে পাউবোর ১৩ কোটি টাকা পানিতে গেল।

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে ফেনীতে সৃষ্টি হয়েছিল শতাব্দীর ভয়াবহতম বন্যা। যে বন্যায় ফেনীর ১৮ লাখ মানুষের সবাই পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছিল। মৃত্যু হয়েছিল ৩৭ জন মানুষের। লাশ দাফনের জন্য এক টুকরো শুকনো জমি কোথাও না পেয়ে বন্যার পানিতে সেই লাশ ভাসিয়ে দিতে হয়েছে। ক্ষতি হয়েছিল হাজার হাজার কোটি টাকা। যার ধকল আজও কাটিয়ে উঠতে পারেনি ফেনীবাসী।

এই বন্যার সূত্রপাত হয়েছিল ভারতীয় বিএসএফ মুহুরি নদীর এই বল্লামুখা বাঁধ কেটে দিলে। যে বাঁধ পুনর্র্নিমাণ করতে গিয়ে বিজিবি বিএসএফ বহু আলোচনা, বহু পতাকা বৈঠক করতে হয়েছে। যখনই বাংলাদেশীরা বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে তখনই বিএসএফ বাধা দিয়েছে। অবশেষে ফেনীস্থ ৪ বিজিবি অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোশাররফ হোসেনের সাহসিকতা ও বুদ্ধিমত্তার ফলে বাঁধ নির্মাণ সম্ভব হচ্ছে।

২০২৫ সালের মধ্যে বাঁধ নির্মাণের কাজ শেষ করার কথা থাকলেও এখনো পঞ্চাশ পার্সেন্ট কাজও শেষ হয়নি। এর মধ্যে বালু খেকো দুবৃত্তরা লুটে নিয়ে যাচ্ছে বাঁধের বালু, মাটি। একটি রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় চলছে এই ভয়ংকর দুবৃত্তপনা। জেলা প্রশাসক মনিরা হক বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এই সময় তাঁর সাথে ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া সুলতানা ও এসিল্যান্ড শাফায়াত আক্তার নূর। ডিসি মনিরা হক পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে বাঁধের বালু ও মাটি লুটের বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছেন।

গতকাল শনিবার ডিসি আবার বল্লামুখা এলাকায় যান। তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া সুলতানাকে আহবায়ক করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে আগামী তিনদিনের মধ্যে রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশ দেন।

সদ্য বিদায়ী জনপ্রিয় ডিসি সাইফুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, এই বাঁধ টেকসই করে নির্মাণের জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। অবশ্য এর জন্য ফেনীবাসীকে বহু আন্দোলন, মিছিল, মিটিং, মানববন্ধন করতে হয়েছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্মিত এই বাঁধের বিভিন্ন অংশ থেকে স্কাভেটর (ভেকু) দিয়ে মাটি কেটে ট্রাক, ট্রলিতে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। যার ফলে বাঁধ নানা স্থানে সরু হয়ে গেছে এবং বাঁধের তলদেশে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। অচিরেই এসব স্থানে বাঁধ ধ্বসে পড়বে।

দেশের এতবড় ক্ষতি করতে যাদের হাত কাঁপেনি তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা করার দাবী উঠেছে সচেতন মহল থেকে। সেই সাথে এর সঙ্গে পাউবোর কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার যে অভিযোগ উঠেছে তাও উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত সাপেক্ষে প্রমানিত হলে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করার দাবী উঠেছে।