১৯৭১ ছিলো আমাদের প্রথম স্বাধীনতা আর ১৯২৪ দ্বিতীয় স্বাধীনতা। একাত্তরে পেয়েছি ভূখণ্ড, পতাকা। তবে পূর্ণ স্বাধীনতা অর্জিত হয়নি বলেই ৫৪ বছর পরও বলতে হয় দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা। গত ১৫ বছরে ভারতীয় আধিপত্যবাদের কবলে পরে এই জাতির সম্মান বলে কিছুই নাই। জাতিকে জাগানোর জন্য একটা আইকন দরকার ছিলো। সেই আইকন হলো শরীফ ওসমান হাদি। ওসমান হাদির আন্দোলন ছিলো রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে। ঔপনিবেশিক প্রভুর ভাষা গ্রহণ করার অর্থ হলো তার সংস্কৃতি ও দমনের কাঠামোকেও মেনে নেওয়া। ওসমান হাদি সেই কাঠামো ভাঙতে চেয়েছিলেন বলেই তিনি বস্তুবাদী রাজনীতির অসারতাকে উন্মোচন করে দেন। আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই কেবল রাজপথে স্লোগান দেওয়ার বিষয় নয়; এটি নিজের ভাষা, সংস্কৃতি এবং বিশ্বাসকে পুনর্গঠনের লড়াই। ওসমান হাদি আমাদের সে পথ দেখিয়ে গেছেন। গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার মিলনায়তনে ‘শহীদ ওসমান হাদি: আধিপত্যবাদবিরোধী লড়াই ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক গ্রন্থ প্রকাশ অনুষ্ঠান ও সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
সাহিত্য সংগঠন কাঠপেন্সিল ও ডাকটিকিট-এর আয়োজনে অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নর্দান ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সাবেক উপাচার্য, কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. আবদুল লতিফ মাসুম-এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন দৈনিক যুগান্তর-এর সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব কবি জাকির আবু জাফর, কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক লতিফুল ইসলাম শিবলী, প্রকৌশলী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মারদিয়া মমতাজ, শহীদ ওসমান হাদির ভাই ওমর বিন হাদি, সাংস্কৃতিক সংগঠক মাহবুব মুকুল এবং কাঠপেন্সিল সম্পাদক সীমান্ত আকরাম প্রমুখ।
এম তারিক হাসিবের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডাকটিকিট সম্পাদক কবি মুন্সী বোরহান মাহমুদ। অনুষ্ঠানে ওসমান হাদির স্মরণে আবৃত্তি ও গান পরিবেশন করেনÑ শিল্পী আমিরুল মোমেনীন মানিক, আবৃত্তি শিল্পী আজহারুল ইসলাম রনি, শিল্পী তাওহীদুল ইসলাম, সাব্বির আহমেদ ও তানভীর রহমান।