সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম–এর পক্ষে শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর ও ভূরুলিয়া ইউনিয়নে পৃথক দুটি নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকাল ৩টায় প্রথম জনসভা অনুষ্ঠিত হয় ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের বংশীপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায়। ঈশ্বরীপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওলানা আলমগীর হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ জনসভায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক এমপি গাজী নজরুল ইসলাম।
বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুর রহমান, জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক আব্দুল জলিল, জেলা জামায়াত সদস্য মাওলানা আব্দুল মজিদ, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা মইনুদ্দিন মাহমুদ, অধ্যক্ষ মাওলানা অহেদুজ্জামান, ১০ দলীয় জোটের নেতৃবন্দসহ উপজেলা ও ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের জামায়াত নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, দাঁড়িপাল্লা প্রতিকে ভোট দেয়ার পাশাপাশি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আমাদের অবশ্যই ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে। তিনি বলেন, শত দুঃখ–বঞ্চনার শিকার সাধারণ মানুষের পক্ষে দাঁড়িয়ে আগামী নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়াই হবে ন্যায় ও পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নেওয়া।
তিনি তার সংসদ সদস্য থাকাকালীন সময়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে বলেন, ভেটখালী ব্রিজ নির্মাণের মাধ্যমে বংশীপুর–ভেটখালী–কৈখালী এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন এসেছে। তার সময়ে গ্রামীণ রাস্তাঘাট উন্নয়ন, মসজিদ ও মাদ্রাসা নির্মাণ এবং সরকারি বরাদ্দ সুষ্ঠুভাবে বিতরণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আগামীতে উপকূলীয় জনপদের মানুষের দুঃখ–দুর্দশা লাঘবে কৃষি খাতে আধুনিকায়ন, লবণাক্ততা মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ, বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতকে দুর্নীতিমুক্ত করে শ্যামনগরকে একটি মডেল উপজেলায় রূপান্তর করাই তার মূল লক্ষ্য।
এরপর বিকাল ৫টায় ভূরুলিয়া ইউনিয়নের রুদ্রপুর আলী মার্কেট প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। ভূরুলিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাস্টার জিন্নাত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ জনসভায় উপজেলা জামায়াতসহ ১০ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন।
এ জনসভায় বক্তারা বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সুশাসন, ন্যায়বিচার ও জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় একটি গ্রহণযোগ্য বিকল্প শক্তি গড়ে তোলা জরুরি। তারা বলেন, শ্যামনগরের উন্নয়ন ও উপকূলীয় মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ে গাজী নজরুল ইসলামের অভিজ্ঞতা ও পরিচ্ছন্ন নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দুই ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত আজকের জনসভাগুলোতে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। এসব কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শ্যামনগরে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী প্রচারণা আরও গতিশীল হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।