নারীদের ঘরের কাজের অবদান যদি আর্থিক মূল্যে (মনিটাইজ) হিসাব করা হতো, তবে বাংলাদেশের জিডিপি বর্তমানের তুলনায় তিনগুণ বেশি হয়ে যেত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

গতকাল সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে নারী কর্মকর্তাদের পারফরম্যান্স ছিল প্রশংসনীয় উল্লেখ করে সিইসি বলেন, ভোটের পর অনেক অনিয়মের অভিযোগ আমার কাছে এসেছে, কিন্তু মজার ব্যাপার হলো তদন্ত করে দেখেছি অভিযুক্তদের সবাই পুরুষ প্রিজাইডিং অফিসার। কোনো নারী প্রিজাইডিং অফিসারের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত আমি পক্ষপাতিত্ব বা অনিয়মের অভিযোগ পাইনি। ভবিষ্যতে ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ নারী নির্বাচন কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ পুরস্কারের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনাও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন ভালো হলে সাধারণত ভোট শেষ হওয়ার পর কিছু রাজনৈতিক আপত্তি ওঠে, যা আমাদের দেশের কালচার। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে ভোটাররা ভোট দিতে পারেননি এমন কোনো অভিযোগ আমি এখনো শুনিনি।

নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার এক মাস পার হলেও আঙুলের অমোচনীয় কালি না ওঠায় হাস্যরস করে সিইসি বলেন, কালি তো উঠছে না। ভয় হচ্ছে সামনের লোকাল গভর্নমেন্ট (স্থানীয় সরকার) নির্বাচনে এই কালি নিয়ে ভোট দিতে গেলে আবার ধরা খাই কি না!

সিইসি ‘সংখ্যালঘু’ শব্দটির ব্যবহারে নিজের আপত্তির কথা জানিয়ে বলেন, আমরা সবাই বাংলাদেশী। এখানে মাইনরিটি কীসের? আমরা তো এক জাতি। রিলিজিয়াস অর্থে হয়তো বিভাজন করা হয়, কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি সবাই সমান এবং সবার সমান অধিকার।