গতকাল বহু নাটকীয়তা, শুনানী, স্থগিতাদেশ ও স্থিতাবস্থার পর অবশেষে আপিল বিভাগ গতকাল বুধবার ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেছে। রায়ে নবসৃষ্ট গাজীপুর-৬ আসন বাতিল এবং বাগেরহাট-৪ আসন বহাল রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই টঙ্গী, গাছা ও পূবাইল-মহানগরজুড়ে তীব্র ক্ষোভ, হতাশা ও প্রতিবাদের সুর ছড়িয়ে পড়ে। শিল্পনগর গাজীপুর যেন রীতিমতো বিস্ময়ে স্তব্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই রায়ে গাজীপুরের জনঘনত্ব, ভোটার বাস্তবতা, শিল্পাঞ্চলভিত্তিক প্রশাসনিক চাপ এবং নাগরিক প্রতিনিধিত্ব-এসব মৌলিক বিষয় সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষিত হয়েছে। বহু বাসিন্দা বলেছেন, এটি জনসংখ্যা বাস্তবতা ও ন্যায়সংগত প্রতিনিধিত্বের ওপর সরাসরি আঘাত। পরিসংখ্যান আদালতে উপস্থাপন করা হলেও রায়ে প্রতিফলন নেই গাজীপুরবাসীর ক্ষোভ গতকাল বুধবার ফুলবেঞ্চে গাজীপুরের পক্ষে থাকা আইনজীবীরা গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।

বাগেরহাটের চারটি আসনে ভোটার সংখ্যা মাত্র ১২ লাখ, জনসংখ্যা ১৬ লাখ। অন্যদিকে গাজীপুর-৬ আসন এলাকায় ভোটার ৫ লাখের বেশি, আর পুরো জেলায় জনসংখ্যা প্রায় ৬৯ লাখ। ছোট জনসংখ্যার জেলায় ৪ আসন বহাল রেখে, শিল্পশ্রমিকঘন বৃহৎ নগর গাজীপুরে অতিরিক্ত আসন বাতিলের যুক্তি আদালতকে চাপে ফেললেও চূড়ান্ত রায়ে সেই বাস্তবতা অনুপস্থিত। স্থানীয়রা বলছেন, গাজীপুরের বাস্তব চিত্র রায়ে প্রতিফলিত হয়নি। রায়ের ফলে গাজীপুর-২ আসনে প্রায় সাড়ে ৮ লাখ ভোটার জমাপড়বে যা একে দেশের সবচেয়ে বড়, জটিল এবং কার্যত অকার্যকর আসনে পরিণত করবে বলে বিশ্লেষকদের মত।