মো. সাইদুল কবির, কাউখালী (পিরোজপুর) : পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলাধীন সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত মৈশানী মুক্তাহারের খেয়াঘাটটি নদী ভাঙ্গনের ফলে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ইতোমধ্যেই নদী ভাঙ্গনে খেয়াঘাটটির তীরবর্তী অংশ ভেঙে নদী বক্ষে বিলিন হয়েছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, গাবখান চ্যানেলের মধ্যবর্তী এই অংশটি দিয়ে দুই জেলার সংযোগ সাধিত হয়েছে। খেয়াঘাটতি এই অঞ্চলের মানুষের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই খেয়া পারাপারের মাধ্যমেই দুই জেলা পিরোজপুর (নেছারাবাদ) ও ঝালকাঠি সদরকে সংযুক্ত করেছে। এই খেয়াঘাট থেকে প্রতিদিন শত শত মানুষ যাতায়াত করে থাকে। এছাড়া নদীর উভয় পারে বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকায় প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থীদের এই খেয়াঘাট দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু বর্তমানে খেয়া ঘাটতি ভেঙে যাওয়ায় শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে খেয়া পার হতে হয়।
সরেজমিন ঘুরে আরো দেখা যায়, ঘাটটির তীরবর্তী অংশের মাটি ভেঙে পুরনো ভাঙ্গা পাকা ঘাটটি নদীর মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে এবং সামনের অংশ ভেঙে নদীর মধ্যে ঝুলে আছে। বর্তমানে স্থানীয় মানুষ সুপারি গাছ ও বাঁশ দিয়ে মাঁচা তৈরি করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, প্রায়শই এখানে দুর্ঘটনায় আহত হয় সাধারণ মানুষ বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা। বর্ষা মৌসুমে এখানের অবস্থা আরো খারাপ থাকে।
নদীর নেছারাবাদ অংশে রয়েছে গাজীপুর মৈশানী হারুনার রশিদ ফাজিল মাদ্রাসা,মৈশানী গার্লস হাই স্কুল, মৈশানী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাট-বাজার, সপ্তগ্রাম সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ঝালকাঠি অংশে রয়েছে খায়েরহাট মাধ্যমিক স্কুল এন্ড কলেজ, আজিমুন্নেসা গার্লস মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ, আঞ্জির শাহ মাজার কমপ্লেক্স, শেখেরহাট বাজার, রোকেয়া খাতুন গার্লস হাই স্কুল সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সরকারি বেসরকারি অফিস। যাতায়াতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই খেয়া ঘাটটি দিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্ট শত শত মানুষ ও শিক্ষক শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ভাবে পারাপার হয়ে থাকে। তাই যাতায়াতের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এই খেয়াঘাটটি সংস্কার অথবা পূর্ণ নির্মাণ করা সাধারণ মানুষের প্রাণের দাবি।
কুমিল্লায় যুবদল নেতার নেতৃত্বে আইনজীবী অফিস ভাঙচুর ॥ প্রতিবাদে মানববন্ধন
কুমিল্লা অফিস : কুমিল্লা অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এপিপি এড মনির পাটোয়ারী চেম্বার ভাংচুর করেছে বাতিসা ইউনিয়ন যুবদলের ১নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রানার নেতৃত্ব। এর প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে কুমিল্লা আইনজীবী সমিতি। সম্প্রতি জেলা আইনজীবী সমিতির সামনে এই মানববন্ধন করে।
এসময় বক্তব্য রাখেন, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট শহিদ উল্যা,সাধারন সম্পাদক এডভোকেট খন্দকার মিজানুর রহমান ,সাবেক সহ সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল ইসলাম ভুইয়ান,সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ইয়াকুব আলি চৌধুরী ,সহকারি পিপি এডভোকেট সাইদুল ইসলাম ,এডিশনাল পিপি নারি শিশু এডভোকেট মোতালেব। সঞ্চালনা করেন এডভোকেট ওবায়েদ উল্লাহ সরকার।
এ সময় আইনজীবীরা সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানান।
এবিষয় আইনজীবী মনির হোসেন পাটোয়ারী জানান গত শনিবার নিজ এলাকা চৌদ্দগ্রাম একতা বাজারে গ্রামবাসীর অনুরোধে নিজ চেম্বার চালু করি,চেম্বার উদ্বোধন সময় বিএনপি প্রার্থী কামরুল হুদা ও জামায়াতের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মঙ্গবার রাতে কয়েকটি সিএনজি এবং মোটরসাইকেল যোগে দূবৃত্তরা এসে তার চেম্বারে হামলা এবং ভাঙচুর চালায় এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।সেসময় সেখানে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে কয়েকজনকে শনাক্ত করেন ভুক্তভোগী এডভোকেট মনির হোসেন পাটোয়ারী।শনাক্তকৃত দূর্বৃত্তরা বিএনপি প্রার্থী কামরুল হুদার অনুসারী বলে জানান তিনি।
ভাঙচুরকারী দুর্বৃত্তরা হলেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাতিসা ইউনিয়ন এর সোনাপুর গ্রামের জাহিদ হাসান মাসুম,একই উপজেলার ঢলবা গ্রামের যুবদল রনা,চান্দকরা গ্রামের ফরহাদ,পাটানন্দি গ্রামের মৃত আলহাজ্ব মুজিবর রহমান এর ছেলে আনোয়ার হোসেন ডেবিট,ঢলবা গ্রামের আব্দুর রশিদ এর ছেলে মেজবাহ সহ অজ্ঞাতনামা অনেকেই।
ভুক্তভোগী এডভোকেট মনির হোসেন পাটোয়ারী বলেন “বিগত দুইদিন যাবত চৌদ্দগ্রামে বিভিন্ন যায়গায় জামায়াতের অফিস ভাঙচুর হচ্ছে, কিন্তু গতকাল রাতে আমার ব্যাক্তিগত চেম্বারও ভাঙচুর করা হয়,আমার সাথে তো বিএনপির কারো কোনো বিরোধ নেই,আমার চেম্বার কেন ভাঙচুর করা হলো ? আমি এর বিচার চাই”।
এবিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান তিনি।