আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাইকগাছা - কয়রা ৬ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল সহকারী পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, দেশের মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা ও অবহেলিত জনপদের উন্নয়নে জামায়াতে ইসলামী আপসহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছে। জনগণের ভোট ও সমর্থনের মাধ্যমে একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”

‎​বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৩টায় পাইকগাছা উপজেলার লস্কর ইউনিয়নের আলমতলা ইসলামিয়া আজিজিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। লস্কর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে এই সভার আয়োজন করা হয়।

‎​ ‎​খুলনা-৬ আসনের এই সংসদ সদস্য প্রার্থী তাঁর বক্তব্যে স্থানীয় সমস্যার কথা তুলে ধরে উন্নয়ন ও জনকল্যাণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেন, “লস্কর ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অবহেলা ও পরিকল্পনাহীন উন্নয়নের শিকার। টেকসই রাস্তাঘাট, জলাবদ্ধতা নিরসন, সুপেয় পানির সংকট দূরীকরণ এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন আমাদের অগ্রাধিকার। ক্ষমতার রাজনীতি নয়, জনকল্যাণমূলক রাজনীতির মাধ্যমেই এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব।”

‎​তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, নির্বাচিত হলে লস্কর ইউনিয়নে আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা ও বিদ্যমান মাদ্রাসা-স্কুলের মানোন্নয়ন করা হবে, দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। এছাড়া যুব সমাজের জন্য কর্মমুখী প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থার পাশাপাশি ‎​নারীদের নিরাপত্তা ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা হবে।

‎ শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সংস্কৃতির আহ্বান ‎​জানিয়ে মাওলানা আজাদ বলেন, “ভয়ভীতি ও দখলদারিত্বের রাজনীতি পরিহার করে শান্তিপূর্ণ ও নৈতিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। সমাজ থেকে মাদক, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস নির্মূলে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।”

‎​জনসভায় ​লস্কর ইউনিয়নের আমীর মাওলানা মোজাফফর হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি এস এম শামসুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খুলানা জেলার সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা গোলাম সরোয়ার , ‎​কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট লিয়াকত আলী সরদার. ইসলামী ছাত্রশিবির খুলনা জেলা দক্ষিণের সভাপতি আবু জার আল গিফারী , পাইকগাছা উপজেলা জামায়াত আমীর মাওলানা সাইদুর রহমান । ‎​এছাড়াও কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ সভায় বক্তব্য রাখেন। বক্তারা উপকূলীয় অঞ্চলের সমস্যা সমাধানে আগামী নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে বিজয়ী করার জন্য সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।