বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে সরকার দলীয় নেতাকর্মিদের নিয়োগের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পর এবার জানাগেল একজন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হত্যা মামলার আসামীকে সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের খামখেয়ালি সিদ্ধান্তের ফলে আগামীকালের উপনির্বাচন নিয়ে জনমনে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যে জানাগেছে, বগুড়া-৬ সদর আসনের উপনির্বাচনে সদর উপজেলার লাহিড়ীপাড়া ইউনিয়নের ভান্ডার পাইকার উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত আবু তাহের মেজবা একটি কলেজের লাইব্রেরিয়ান পদে চাকুরি করছেন। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ শিমুল হত্যার দায়ে তার স্ত্রী শিমু বেগম বাদী হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামী করে যে হত্যা মামলা দায়ের করেন সেই মামলায় আবু তাহের মেজবা ৪০নং আসামী। একজন হত্যা মামলার আসামীকে নির্বাচনী দায়িত্ব প্রদানের ঘটনায় সচেতন মহল বিষ্ময় প্রকাশ করেছেন।

এ বিষয়ে উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতাকারী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল বলেন, নির্বাচন কমিশন শুরু থেকেই একটি রাজনৈতিক দলের প্রতি দূর্বলতা প্রকাশ করেছে। সুনির্ধিষ্টভাবে নাম এবং দলীয় পদবী উল্লেখ করে প্রিজাইডিং অফিসারদের নামের তালিকা জমা দেওয়ার পরেও রিটার্নিং অফিসার কোন পদক্ষেপ নেননি। ফলে তারা ইতোমধ্যেই বিতর্কিত হয়েছেন। এর মধ্যে জুলাই শহীদ শিমুল হত্যা মামলার একজন হত্যা মামলার একজন আসামীকে নির্বাচনী দায়িত্ব প্রদানের বিষয়টি বেশ উদ্বেগজনক। এই প্রশাসন কতটা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আােজন করতে পারবে তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

এদিকে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিরোধী হত্যা মামলার আসামীকে নির্বাচনী দায়িত্বে দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দানকারী অনেকেই। তারা অবিলম্বে এই কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার এবং এই কাজে জড়িত নির্বাচন কর্মকর্তার শাস্তির দাবী জানিয়েছেন।