কুমিল্লার তিতাসে সড়ক থেকে ট্রলি উলটে নদীতে পড়ে একই গ্রামের তিন নারী নিহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে তিতাস উপজেলার কড়িকান্দি-চররাজাপুর সড়কের পার্শ্ববর্তী তিতাস নদীর একটি শাখা খালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, কড়িকান্দি গ্রামের শুক্কুর আলীর স্ত্রী রিনা আক্তার (৩৫), ইমন মিয়ার স্ত্রী রুজিনা আক্তার (৩০) ও ফারুক মিয়ার স্ত্রী সামছুন নাহার (৪০)। এদের মধ্যে রুজিনা ও সামছুন নাহার আপন জা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত তিন নারী তিতাস নদীর একটি শাখা খালে গোসল করতে নেমেছিলেন, এমন সময় রাজাপুর থেকে কড়িকান্দি বাজারগামী একটি খালি ট্রলি ওই এলাকার ইমন মিয়ার বাড়ির সামনে এসে উলটে খালের পানিতে থাকা নারীদের ওপর পড়ে যায়, এতে ঘটনাস্থলেই রিনা ও রুজিনা মারা যান এবং সামছুন নাহারকে আহত অবস্থায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিতাস থানার অফিসার ইনচার্জ মো. খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, তিতাসের কড়িকান্দি এলাকার চররাজাপুর সড়কে এ দূর্ঘটনা ঘটে। এতে একই গ্রামের তিন নারী নিহত হয়েছেন। এদিকে একই পরিবারের তিন নারীর মৃত্যুর খবর শুনে আশপাশের কয়েক গ্রামের মানুষ ঘটনা স্থলে এসে নারীদের লাশ দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এমন মর্মান্তিক ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক তিতাস থানা পুলিশ ঘটনা স্থলে যায়।

রাজশাহী ব্যুরো: রাজশাহীতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় চার ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে একটি শিশু রয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে গোদাগাড়ীতে সড়ক দুর্ঘটনায় সাইকেল আরোহী কালু (৫৫) নিহত হন। প্রাথমিক তথ্যে জানা যায়, গোদাগাড়ী উপজেলার কাশিমপুর এলাকার ওয়েজউদ্দিনের ছেলে কালু সাইকেল চালাচ্ছিলেন। পথ চলাকালে রহনপুর ট্রাভেলস নামে একটি বাস তাকে চাপা দেয়। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই কালু মারা যান। স্থানীয়রা জানান, বাসটি দুর্ঘটনার পর দ্রুত চলে যায়।

গত বুধবার রাতে নগরীর চৌদ্দপাই এলাকায় বালু বোঝাই ট্রাকের চাপায় শহিদুল ইসলাম (৪৫) নিহত হন। তিনি শ্যামপুর পশ্চিমপাড়া সাইদের মোড়ের আল শেখের ছেলে এবং ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা চালাতেন। স্থানীয়রা জানান, বুধবার এশার নামাজের পরে শহিদুল বাড়ি ফিরছিলেন। রাস্তা পার হওয়ার সময় বালু বোঝাই একটি ট্রাক তাকে চাপা দেয়, এতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর উত্তেজিত জনতা রাত পৌনে ১০টার দিকে রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কের চৌদ্দপাই এলাকায় সড়ক অবরোধ করে। এতে প্রায় আধাঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

গত মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে চারঘাট-বাঘা সড়কের এছেরের বটতলা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মিনারুল ইসলাম নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত ও আহত হন দুইজন। নিহত মিনারুল হক (২৮) বাঘা উপজেলার মনিগ্রাম ইউনিয়নের হাবাসপুর এলাকার জাবেদ আলী মন্ডলের ছেলে। পুলিশ জানায়, মৃত ও আহতরা মোটর সাইকেলযোগে হাবাসপুর থেকে চারঘাটের দিকে যাচ্ছিলেন। এসময় একটি আখ বোঝাই ট্রাক্টরের ধাক্কায় তারা রাস্তায় পড়ে যান। পরে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের নিচে পড়ে মিনারুল ইসলাম ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত বাপ্পি ও পলাশকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

গত বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে রাজশাহী নগরীর লিলি হল মোড়ে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে ট্রাকচাপায় পিষ্ট হয়ে সাদ আলী (১০) নামের একটি শিশু প্রাণ হারায়। নিহত সাদ আলীর বাবা লিয়াকত আলী লিটন একজন এনজিওকর্মী। তাদের গ্রামের বাড়ি লালমনিরহাট জেলায়। দুর্ঘটনার পর ট্রাকচালক দ্রুত গাড়িটি নিয়ে সটকে পড়ে। এ ঘটনার পর ক্ষুব্ধ লোকজন রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। প্রায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ থাকায় দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।