ইবরাহীম খলিল, মোস্তাফা মোঘল, শওকত জামান ও শাহীদুল ইসলাম : গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার নির্বাচনী সমাবেশে উত্তরবঙ্গবাসীকে উন্নত শিক্ষা, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা এবং যুবকদের উপযুক্ত কর্ম দেওয়ার অঙ্গীকার করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আপনারা দাঁড়িপাল্লাকে জয়ী করুন উত্তরবঙ্গকে বাণিজ্যিক রাজধানী বানাবো বিশেষায়িত হাসপাতাল দিয়ে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা করবো এবং কৃষিভিত্তিক শিল্প কারখানা স্থাপন করে বেকারদের উপযুক্ত কর্মের ব্যবস্থা করবো। এ ছাড়াও উত্তরবঙ্গের নদীগুলোকে পরিচর্যা করে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর।
গতকাল শনিবার গাইবান্ধার পলাশবাড়ী এসএম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পলাশ বাড়ী-সাদুল্লাপুর আসনের নির্বাচনী জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব অঙ্গীকার করেন। জেলার ৫টি নির্বাচনী আসনের প্রার্থীদের হাতে তিনি প্রতীক তুলে দেন। এর আগে সকালে রংপুরের পীরগঞ্জে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন ডা. শফিকুর রহমান। সেখানে তিনি শহীদ আবু সাঈদসহ অন্যান্য শহীদদের প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়তে সবার সহযোগিতা এবং দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। এসময় তিনি স্থানীয় জামায়াতের প্রার্থীকে উপস্থিত সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দেন।
পলাশবাড়ীর সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমি এসেছি গাইবান্ধাবাসীর সুখ-দুঃখের সাক্ষী হতে। সাড়ে ১৫ বছর দেশ ও জাতির নির্যাতিত মানুষের কন্ঠ হত। স্বামীহারা বোনকে সান্ত¡না দিতে। আপনাদের পাশ দিয়ে নদীগুলো বয়ে গেছে। এগুলো নিয়ামত। একসময় জাহাজ চলতো। এখন নৌকা চলে না। ফ্যাসিবাদী সরকার তার রক্ষণাবেক্ষণ করেনি। ৪টি নদী নিয়ামত। সবগুলো নদীর একই অবস্থা। এই নদীগুলো শরীরের রক্তনালীর মতো। আজকে কার্যত অতীতের সরকারগুলোর উদাসিনতায় উত্তরাঞ্চলকে অচল করে দেওয়া হয়েছে। আমরা সরকার গঠন করতে পারলে উত্তরাঞ্চলের নদীর জীবন ফিরিয়ে দেবো। উত্তরাঞ্চলের জীবন ফিরিয়ে দিবো। বাণিজ্যিক রাজধানী করে দেবো। এজন্য তিস্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। আমরা কারো লালচক্ষুকে ভয় পাই না। বিশে^র সাথে সম্পর্ক চাই। প্রতিবেশিদের সাথে প্রতিবেশিসুলভ সম্পর্ক চাই।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা আর ফ্যাসীবাদী শাসন দেখতে চাই না। ১২ ফেব্রুয়ারি তারিখে জুলাই অভ্যূত্থানের শহীদদের প্রতি সম্মান রেখে হ্যাঁ ভোটে রায় দিতে হবে। শহীদেরা চেয়েছিল বৈষম্যম্ক্তু ন্যায় বিচারের বাংলাদেশ। বলেছিল বুকের ভেতর তুমুল ঝড় বুক পেতেছি গুলী কর’।
তিনি বলেন, পর পর তিনটি নির্বাচনে যুব সমাজ ভোট দিতে পারেনি। আগামি ১২ তারিখ অতীতের ৫৪ বছরের বস্তাপঁচা রাজনীতি বাদ দিয়ে নতুন দেশ গঠনে ভোট দিবো। নতুন রাজনীতিকে স্বাগত জানাবো।
আমীরে জামায়াত বলেন, উত্তরবঙ্গকে তিলে তিলে হত্যা করা হয়েছে। কথা দিচ্ছি ঘরে বসেই আপনারা উত্তরবঙ্গকে রাজধানী বানাবেন। যুবকরা ন্যায্য কাজ চায়। ভাতা চায় না। আমরা তাদের দেশ গড়ার কারিগর বানাবো। তারা সম্মানের সাথে চাকরি ব্যবসা করবে। এখানে আমরা শিল্প এলাকায় পরিণত করবো। এখানো শস্য উৎপাদন করলেও মূল্য পায় না। আমরা চাঁদাবাজদের নির্মূল করবো। আমরা চাঁদাবাজদের হাতেও কাজ তুলে দিবো। আমরা সবজেলায় মেডিকেল গড়ে তুলবো। বিশেষায়িত হাসপাতাল বানিয়ে দেবো। তখন আর কেউ রাজধানীতে ছুটবে না।
উন্নত শিক্ষা মানসম্মত স্বাস্থ্য সেবা ও মান সম্মত কাজের ব্যবস্থা করবো। সবাই একসাথে সুখে-দ:ুখে বসবাস করবো। কথা দিচ্ছি মায়েদের সম্মানজনক কাজ ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবো। সেই বাংলাদেশ আমরা গড়তে চাচ্ছি। আপনারা কি আমাদের সঙ্গে থাকবেন ? মাঠ থেকে জবাব আসে হ্যাঁ। উত্তরবঙ্গে একাধিক কৃষি বিশ^বিদ্যালয় দরকার। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজগুলো করা হবে। নদীগুলোকে পরিচর্যা করবো।
তিনি গাইবান্ধার প্রার্থীর হাতে প্রতীক তুলে দিয়ে বলেন, আাপনারা ইনসাফের প্রতীকের সাথে থাকবেন। স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার সাথে থাকবেন। তাদের জয় নিশ্চিত করবেন। আপনারা কথা দেন। আপনারা তাদের জয়ী করবেন। জেলা আমীর ও গাইবান্ধা -২ সদর আসনের প্রার্থী আব্দুল করিমের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, ইসলামী ছাত্র শিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, গাইবান্ধা- গোবিন্দগঞ্জ আসনের প্রার্থী ডা. আব্দুর রহিম সরকার, সাঘাটা ফূলছড়ি-৫ এর বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়ারেস, গাইবান্ধা -১ সুন্দরগঞ্জ আসনের প্রার্থী অধ্যাপক মাজেদুর রহমান, গাইবান্ধা -৩ আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা নজরুল ইসলাম, জেলা শ্রমিক কল্যান ফেডারেশনের সভাপতি মো. নূরুন্নবী প্রধান, ছাত্র শিবিরের রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয় সভাপতি মোজাহিদ ফয়সাল, গাইবান্ধা জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি সৈয়দ রোকন্জ্জুামান,ফয়সাল কবির রানা, গাইবান্ধা শহর শাখার আমীর অধ্যাপক ফেরদৌস আলম, পলাশবাড়ী উপজেলা আমীর আবু বকর সিদ্দিকসহ দশ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ।
মাওলনা আব্দুল হালিম বলেন, জেলার সমস্যা সমাধানে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে কেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। তাহলে আগামি দিনে বৈষম্যমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হবে। এজন্য গাইবান্ধার ৫টি আসনে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীদের পাশ করানোর আহ্বান জানান তিনি। সমাবেশে বক্তারা চিনিকল পুনরায় চালুসহ জেলার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন।
বগুড়া :
বগুড়ায় ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেসা খেলার মাঠে আয়োজিত বিশাল সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সবাই ভোট দিবেন। একটা হ্যা ভোট দিবেন। তাহলে ফ্যাসিবাদ আর ফিরবে না। আমরা দশে মিলে দেশটা গড়বো। শর্ত তিনটা। দুর্নীীতিকে না বলতে হবে। ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে হবে। বস্তাপচা রাজনীতি বাদ দিয়ে সংস্কার করতে সহযোগিতা করবেন। তিন শর্ত মানলে আসুন একসাথে বাংলাদেশ চালাই। আমরা বিভক্তি চাই না।
জামায়াত ক্ষমতায় এলে চান্দু স্টেডিয়াম আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যাবো। বগুড়া সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করবো। সরকারী বিশ^বিদ্যালয় দিবো। যমুনা সেতু বানাবো। এগুলো দয়ার দান নয়। আপনাদের ট্যাক্সের টাকা পাচার করা হচ্ছে। আমরা পেটে হাত দিয়ে নিয়ে আসবো। চোরদের হাত থামিয়ে দেবো। চাঁদাবািিজ থামিয়ে দেবো। কারণ চাঁদাবাজির কারণে জনগণ পণ্যমূল্য পায় না। কথা দিচ্ছি চাঁদাবাজমুক্ত দেশ গঠন করবো।
ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, একটা দল ১০ টাকা কেজি চাল খাওয়া বলেছিল। আপনারা কি পেয়েছেন? মাঠ থেকে জবাব আসে না। মায়েদের ইজ্জতের দাম আমাদের কাছে সবচেয়ে বেশি। তারা ঘরে থাকবেন সম্মানের সাথে। কর্মস্থলে নির্ভয়ে নিঃসংকোচে পুরুষের পাশাপাশি সমানভাবে হবে।
আমরা দেশের যুবকদের হাতে কাজ তুলে দিতে চাই। তাদের বেকারের অভিশাপ থেকে মুক্তি দিতে চাই। আমাদের কথাগুলো ঘরে ঘরে পৌঁছে দিবেন। তিনি বগুড়ার বিভিন্ন আসনের প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান বলেন, সব দল দেখা শেষ এবার দাড়ি পাল্লার বাংলাদেশ। এবার কোথাও কোথাও বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু আমরা বলবো পারবেন না। শোনা যাচ্ছে ভোটকেন্দ্র দখলের চিন্তা করছেন। ইঞ্জিনিয়ারিং করার কথা ভাবছেন। আমরা কোন দুর্বৃত্তকে কেন্দ্র দখলতো দূরের কথা কেন্দ্রের কাছে ঘুরাঘুরি করতেও দিবো না। তিনি পাড়ায় পাড়ায় মহল্লায় মহল্লায় ভোটারদের ঐক্যবদ্ধ করে ভোট কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
বগুড়া জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হকের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রিয় সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মাওলানা আব্দুল হালিম, জাগপা’র সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রিয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা। বক্তব্য রাখেন বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, বগুড়া-২ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান, বগুড়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী নূর মোহাম্মদ আবু তাহের, বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ, বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী দবিবুর রহমানর, বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল, বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী গোলাম রব্বানী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমীর এড. হেলাল উদ্দিন, বগুড়া অঞ্চলের টীম সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, ইসলামী ছাত্রশিবির রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মোজাহিদ ফয়সাল, এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় সহ-মূখ্য সমন্বয়ক সাকিব মাহদী, এলডিপি বগুড়া জেলা সভাপতি এড. মোকলেছুর রহমানর, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা এহসানুল হক, এবি পার্টির সদস্য সচিব এস এ জাহিদ সরকার, খেলাফত মজলিসের জেলা সভাপতি রাশেদুল হাসান, বিডিপির জেলা সভাপতি মাহফুজুল হক, শহর জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা আলমগীর হোসাইন, নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুল হালিম বেগ, জেলা নায়েবে আমীর অধ্যাপক আব্দুল বাসেত, নায়েবে আমীর আব্দুল হাকিম সরকার, শহর শিবিরের সভাপতি হাবিবুল্লাহ খন্দকার, জেলা পশ্চিম শিবিরের সভাপতি সাইয়্যেদ কুতুব সাব্বির, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রিয় নেতা আব্দুল মতিরন, শহর সভাপতি আজগর আলী, শহর জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি রফিকুল আলম, এড. আল-আমিন, জেলা জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি মিজানুর রহমান, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম রাজু প্রমুখ।
জনসভা শেষে ডা: শফিকুর রহমান শেরপুরে বগুড়া-৫ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী দবিবুর রহমানের পথসভায় অংশগ্রহণ করেন। এর আগে সকালে গাইবান্ধা থেকে বগুড়ায় এসে মোকামতলা মহিলা কলেজ মাঠে বগুড়া-২ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা শাহাদাতুজ্জামনের পথসভায় বক্তব্য দেন। কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এসব পথসভায় বক্তব্য রাখেন।
সিরাজগঞ্জ :
এদিন বিকালে সিরাজগঞ্জ জেলা ইসলামিয়া সরকারী কলেজ মাঠে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। সেখানে সিরাজগঞ্জ ১ আসনের প্রার্থী শাহীনুল আলম ও সিরাজগঞ্জ ২ আসনের প্রার্থী জাহিদুল ইসলামের হাতে দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা তুলে দেন। তিনি এই জেলার আরও তিনটি আসনের প্রার্থীর হাতে দশ দলীয় জোটের প্রতীক তুলে দেন। এসময় স্লোগানে স্লোগানে পুরো মাঠ মুখোরিত হয়।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, মাওলানা আব্দুল হালিম, ইসলামী ছাত্র শিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা প্রমূখ। এছাড়া সমাবেশে দশ দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা আর বিভক্ত জাতি চাই না। এক সাথে দেশ গড়তে চাই। একসময় সিরাজগঞ্জ ছিল শিল্প নগরী। একসময় এই শিল্প বসে গেছে। আমাদের যুবকেরা বেকার। সরকারে গেলে তাত শিল্পকে জীবন দেওয়া হবে। সিরাজগঞ্জবাসী ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় রাস্তায় দুধ ফেলে দেয়। কথা দিচ্ছি সিরাজগঞ্জের দুধ প্রক্রিয়া করে গুড়ো দুধ তৈরি করে দেশের সমস্ত চাহিদা পূরণ করা হবে।
তিনি নদী ভাঙনের প্রতিকারের কথা জানিয়ে বলেন, বাজেটের টাকা চুরি হয়ে যায়। দুর্নীতি বন্ধ করলেই নদী জীবন ফিরে পাবে। এজন্য কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বাজেট ছিল কিন্তু খেয়ে ফেলা হয়েছে। এজন্য কাজ হয়নি। খেয়ে ফেলা টাকাগুলো পেট থেকে বের করে আনা হবে। আমরা হাত ঢুকানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি। তাহলে জনগণের ভাগ্য একবছরের মধ্যে চমকাতে থাকবে। বাংলাদেশ ইবনে বতুতার আমল ফিরে পাবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অনেকে ভয় দেখায়। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে নারীদের ঘরে তালা মেরে রাখা হবে। এসব ধোকাবাজদের কথা। আমরা দেখছি বিশ^নবীর যুদ্ধেও নারীরা অংশ নিয়েছেন। ক্ষমতায় এলে নারীদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবো। এই ধোকাবাজদের হাতে নারীরা বিইজ্জতি হয়।
জামায়াতের আমীর বলেন, সিরাজগঞ্জের মানুষ শিক্ষা থেকে পিছিয়ে আছে। দায়িত্ব পেলে শিক্ষার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিবো। সিরাজগঞ্জের মানুষের অধিকার ঘরে পৌছে দেওয়া হবে। যমুনায় স্থায়ী বাঁধ দেওয়া হবে। টেন্ডারবাজি হবে না। আমরা সমস্যার গোড়া ধরে টান দেবো। তাহলে নিচেরগুলো সব ঠিক হয়ে যাবে।
তিনি বলেন, গণভোটে হ্যাঁ মানে ওসমান হাদির হত্যার বিচার হবে, ফ্যাসিবাদ আর ফিরবে না। আধিপত্যবাদ আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে না। তিনি দশ দলের প্রতীককে পাশ করানোর আহ্বান জানান। আপনারা গণভোটে হ্যাঁ কে জয়যুক্ত করবেন। এরপর জামায়াতে ইসলামীর আমীর উল্লাপাড়া ও পাবনার সাথিয়াতে আয়োজিত বিশাল সমাবেশ পথসভায় বক্তব্য রাখেন।