তথ্য ও সচিব মাহবুবা ফারজানা বলেছেন, “দীর্ঘ সময় একটা কর্তৃত্ববাদী শাসনের ফলে আমরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারিনি। দীর্ঘ সময় পর একটি গণভোটের মাধ্যমে আমরা সেই অধিকার প্রয়োগ করতে যাচ্ছি, অর্থাৎ সংস্কারের দিকে যাচ্ছি। কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন চাইলে গণভোটে হ্যাঁ বলতে হবে।”

গতকাল মঙ্গলবার রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজ ও রাজশাহী কলেজে নারী ভোটার এবং প্রথমবারের ভোটারদের জন্য তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘গণভোট ও নির্বাচন ২০২৬ প্রচারণা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। গণভোট কী- তা বুঝাতে গিয়ে সচিব বলেন, গণভোট হচ্ছে আপনার অধিকার প্রতিষ্ঠা করা, নাগরিক হিসেবে আপনি আপনার অধিকার প্রয়োগ করবেন। গণভোটে চারটি প্রশ্ন রয়েছে, যে চারটি প্রশ্নের মধ্যে ১১-১২টি বিষয় রয়েছে। গণভোটের বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করেন সচিব। তিনি বলেন, দশ বছরের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবে না। কেউ ইচ্ছেমতো সংবিধান সংস্কার করতে পারবে না, সংবিধান সংশোধনে আমার মতামতের প্রতিফলন ঘটতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আবার একটি গণভোট হবে। সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়বে। মাহবুবা ফারজানা বলেন, “এসব সংস্কারের জন্য লিখিত দলিল হচ্ছে জুলাই সনদ। আমরা এসেছি একটি ন্যায্যতার জন্য, যেন দেশটা সুন্দরভাবে চলে।” ‘এবারের নির্বাচন হবে ইউনিক এবং শতাব্দীর সেরা নির্বাচন’- প্রধান উপদেষ্টার এ উক্তি উল্লেখ করে এসময় তিনি সকল ভোটারকে ১২ ফেব্রুয়ারি খুব সকাল সকাল ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান। রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজের অনুষ্ঠানে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক সানোয়ার জাহানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিভাগীয় কমিশনার ড. আ.ন.ম. বজলুর রশীদ, গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুল জলিল, রাজশাহী জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রলালয়ের যুগ্মসচিব রিয়াসাত আল ওয়াসিফ। রাজশাহী কলেজের অনুষ্ঠানে কলেজের অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ ইব্রাহিম আলী সভাপতিত্ব করেন। এছাড়াও তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।