বগুড়ার শহীদ চান্দু ষ্টেডিয়ামের উইকেট এবং আউটফিল্ড ক্রিকেটারদের সেরা পছন্দ। শুধু বাংলাদেশী নয়, বিশ্বের নামী-দামী ক্রিকেট তারকারা এই ষ্টেডিয়ামের উইকেটের প্রশংসা করেছেন। বিশ্ব কাঁপানো লংকান তারকা সনাথ জয়সুরিয়া, মাহেলা জয়াবর্ধনে, কুমার সাঙ্গাকারার মত খ্যাতিমান তারকারা খেলেছেন এই মাঠে। ক্লাইভ লয়েড, ওয়াসিম আকরামের মত বিশ্বসেরা ক্রিকেটার এ মাঠের সবুজ ঘাস ছুঁয়েছেন। প্রশংসায় ভাসিয়েছেন গ্রাউন্ডসম্যানদের। দীর্ঘ দিন আন্তর্জাতিক ম্যাচ না হলেও এখনো ক্রিকেটারদের সেরা পছন্দ শহীদ চান্দু ষ্টেডিয়াম।
সদ্য সমাপ্ত বিসিএল খেলতে এসে শহীদ চান্দু ষ্টেডিয়ামের উইকেট এবং আউটফিল্ডের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তাসকিন, রিশাদের মত দেশের সেরা তারকারা। প্রায় দেড় যুগ বিসিবির অবহেলা সত্ত্বেও এই ষ্টেডিয়ামের উইকেট এবং আউটফিল্ড নিয়ে কোন প্রশ্ন তোলেনি কেউ। ক্রিকেটাররা এখনো শহীদ চান্দু ষ্টেডিয়ামের উইকেটকে দেশের অন্যতম সেরা হিসেইে বিবেচনা করেন। অথচ এই ষ্টেডিয়ামের উইকেট রক্ষণাবেক্ষণে নেই কিউরেটর কিম্বা সহকারি কিউরেটর। এই দুটি পদ দীর্ঘ দিন যাবত খালি থাকলেও বিসিবি কাউকে নিয়োগ দেয়নি। ফলে পুরো মাঠ চলছে গ্রাউন্ডসম্যানদের দিয়ে।
জানা গেছে, ২০০৩ সালে ষ্টেডিয়াম নির্মাণের পর তৎকালীন ন্যাশনাল কিউরেটর শ্রীলংকান নন্দসেনার সরাসরি তত্বাবধানে শহীদ চান্দু ষ্টেডিয়ামে ৫টি সেন্টার উইকেট এবং ৪টি প্র্যাক্টিস উইকেট তৈরি করা হয়। বিসিবির সহকারি কিউরেটর আরিফ এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সহকারি কিউরেটর মিন্টুর নেতৃত্বে গ্রাউন্ডসম্যানরা উইকেটগুলো তৈরি করেন। পরবর্তীতে ২০০৪ সালে এই ষ্টেডিয়ামে অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে কিউরেটর এবং সহকারি কিউরেটর ছাড়াই চলতে থাকে কার্যক্রম। ২০০৭ সালে হুমায়ন কবির পদোন্নতি পেয়ে সহকারি কিউরেটর হলে তিনি উইকেটের দেখাশোনা করেন। ২০২৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি হুমায়ন কবির চাকরি থেকে অব্যাহতি নিলে সহকারি কিউরেটর শুণ্য রয়েছে ষ্টেডিয়াম। বর্তমানে হেড গ্রাউন্ডসম্যান আনারুল ইসলাম ষ্টেডিয়ামের সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করছেন।
হেড গ্রাউন্ডসম্যান আনারুল ইসলাম ষ্টেডিয়াম নির্মাণের সময় থেকেই দায়িত্ব পালন করছেন। শহীদ চান্দু ষ্টেডিয়ামের পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন ষ্টেডিয়ামে উইকেট তৈরির কাজে আনারুলকে ব্যবহার করে থাকে বিসিবি। কাজের প্রতি আন্তরিক এবং দক্ষতার কারনে বিসিবি তাকে দিয়েই সহকারি কিউরেটরের কাজ করে নিচ্ছে। দীর্ঘ দিন উইকেটের পরিচর্যার সাথে যুক্ত থাকায় কিউরেটরের পুরো অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন আনারুল। কিন্তু দীর্ঘ দিনেও পদোন্নতি না হওয়ায় হতাশাও কাজ করছে তার মধ্যে। বর্তমানে তিনি দক্ষ কিউরেটরের মতই শহীদ চান্দু ষ্টেডিয়ামের উইকেটের রক্ষণাবেক্ষণ করছেন। বিসিবিও তার প্রতি আস্থা রেখেছে।
এ বিষয়ে বিসিবি’র গ্রাউন্ডস এ্যান্ড ফ্যাসালিটিজ বিভাগের সিনিয়র ন্যাশনাল ম্যানেজার সৈয়দ আব্দুল বাতেন বলেন, আনারুল হেড গ্রাউন্ডসম্যান হিসেবে দক্ষতার সাথে তার দায়িত্ব! পালন করছে। কিউরেটর এবং সহকারি কিউরেটরের অনুপস্থিতিতে সে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে উইকেট এবং আউটফিল্ড রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করছে। সহকারি কিউরেটরের শণ্য পদে অচিরেই লোক নিয়োগ করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে দীর্ঘ দিন অবহেলায় থাকা শহীদ চান্দু ষ্টেডিয়ামের সংস্কার এবং আবারও আন্তর্জাতিক ভেন্যুর মর্যাদা ফিরে পাওয়ার দাবীর সাথে একজন দক্ষ সহকারি কিউরেটর নিয়োগ দেওয়া অতীব জরুরি বলে ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তারা চায় বিসিবি অল্প সময়ের মধ্যেই শহীদ চান্দু ষ্টেডিয়ামের দিকে নজর দিক।