পাইকগাছা সংবাদদাতা : দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীতের প্রকোপ অব্যাহত থাকায় জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে জানুয়ারির শুরুতে দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। বৃষ্টির মতো ঝরা ঘন কুয়াশা আর উত্তরী বরফছোঁয়া হিমেল বাতাসে হাড়কাঁপুনি নয়, শরীর জমে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে সাধারণ মানুষের। গত ছয় দিন ধরে সূর্যের দেখা না মেলায় স্থবিরতা নেমে এসেছে হাটবাজার, সড়ক ও কৃষি প্রধান জনপদগুলোতে।
শ্রমজীবী মানুষের চরম দুর্ভোগ তীব্র শীতের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে নি¤œ আয়ের শ্রমজীবী মানুষের ওপর। খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কৃষি শ্রমিক শহিদুল ইসলাম জানান, এখন তরমুজের চারা লাগানোর সময়। কিন্তু ভোরে মাঠে নামলে হাত-পা অবশ হয়ে আসে। একই কথা বলেন বোরো চাষি কুমারেশ (৪০)। তিনি বলেন, “জমি তৈরি করতে মাঠে যাওয়ার সাহস পাচ্ছি না, শরীর বরফ হয়ে যাচ্ছে।”
রিকশাচালক আব্দুর রশিদ জানান, ঠান্ডার কারণে মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না, ফলে যাত্রীও মিলছে না। পর্যাপ্ত গরম কাপড় না থাকায় অনেক দরিদ্র মানুষ খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুনের উষ্ণতায় টিকে থাকার লড়াই করছেন।
বিপর্যস্ত পশুপাখি ও কৃষি তীব্র ঠান্ডায় শুধু মানুষ নয়, অবলা প্রাণীরাও চরম কষ্টে আছে। একদিকে হাড়কাঁপানো শীত, অন্যদিকে লবণাক্ততার কারণে গো-খাদ্যের সংকটে গরু-ছাগল নিয়ে বিপাকে পড়েছেন খামারিরা।
কৃষি ক্ষেত্রেও পড়েছে বিরূপ প্রভাব। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আতিকুল ইসলাম জানান, “টানা কুয়াশা ও ঠান্ডার কারণে বোরো বীজতলা ও অন্যান্য ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। কৃষকদের ফসল সুরক্ষায় আমরা আগাম পরামর্শ দিচ্ছি।”
স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিশু ও বৃদ্ধ শীতজনিত রোগের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। খুলনা সদর হাসপাতাল ও পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সর্দি, কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে বিপুল সংখ্যক রোগী ভর্তি হচ্ছেন। চিকিৎসকরা জানান, আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি।
এক নজরে বর্তমান পরিস্থিতি খাত বর্তমান অবস্থা আবহাওয়া টানা ৬ দিন সূর্যের দেখা নেই, ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়া।
পরিবহন তীব্র কুয়াশায় সড়কে যানবাহনের ধীরগতি, নৌ-চলাচলেও বিঘœ। কৃষি বোরো আবাদ ও তরমুজ চাষ ব্যাহত, বীজতলা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি। স্বাস্থ্য শিশু ও বৃদ্ধদের মাঝে শ্বাসকষ্ট ও শীতজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব।
স্কুল শিক্ষক নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, “আমাদের পর্যাপ্ত গরম কাপড় থাকার পরও আমরা কাবু হয়ে পড়ছি। সেখানে ছিন্নমূল ও দরিদ্র মানুষের কষ্ট বর্ণনাতীত।” প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত শীতবস্ত্র বিতরণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।