রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় পুকুর খননে বাধা দেয়ায় আহমেদ জুবায়ের (২২) নামের এক তরুণকে হত্যার ঘটনায় বিপ্লব হোসেন (৫২) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। বুধবার দিবাগত মধ্যরাতে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ওয়াপদা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-৫ এর সদর কোম্পানি ও র্যাব-১০-এর ফরিদপুরের সিপিসি-৩ এর একটি দল যৌথভাবে এ অভিযান চালায়। গ্রেপ্তারকৃত বিপ্লবের বাড়ি মোহনপুরের বাকশিমইল ইউনিয়নের ধাতুড়িয়া গ্রামে। তিনি এলাকায় পুকুর খনন চক্রের মূলহোতা বলে অভিযোগ আছে। তিনি ধরা পড়লেও ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে কথিত বিএনপি’র দুই নেতা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। বৃহস্পতিবার সকালে র্যাব-৫ এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তার বিপ্লব মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। উল্লেখ্য, সম্প্রতি মোহনপুরের ধুরইল ইউনিয়নের বড় পালসা বিলে কৃষকদের জমি জোরপূর্বক দখলে নিয়ে পুকুর কাটতে শুরু করেছিল একটি চক্র। গত ১৭ ডিসেম্বর রাতে পুকুর কাটার সময় শতাধিক গ্রামবাসী গিয়ে বাধা দেন। তখন ভেকু চালক আবদুল হামিদ ভেকুর বাকেট চারপাশে ঘোরাতে থাকেন, যেন গ্রামবাসী তার কাছে যেতে না পারে। অভিযোগে প্রকাশ, এ সময় ভেকুর বাকেটে মাথায় আঘাত পেয়ে পড়ে যান আহমেদ জুবায়ের। এরপর তার শরীরের ওপর ভেকু তুলে দেন চালক হামিদ। এতে ঘটনাস্থলেই জুবায়েরের মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা হামিদকে আটক করে পুলিশে দেন। আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ধুরইল ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক আনিসুজ্জামান বকুল ও ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন। দলীয় প্রভাবের কারণে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে মোহনপুর থানায় হত্যামামলা করেন। এতে সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাত আরো ১০/১২ জনকে আসামি করা হয়। আসামিদের মধ্যে শুধু হামিদকে আটক করেছিল পুলিশ। পরে আর কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি।