মুন্সীগঞ্জ সংবাদদাতা : মুন্সীগঞ্জের বাঘড়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে সরকারি খাস জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। হাইকোর্টের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে কোটি টাকার মাটি কেটে বিক্রি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, আদালতের আদেশ কার্যকরের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট নথি রহস্যজনকভাবে গায়েব করে অবাধে মাটি খনন চালানো হচ্ছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত দুই ব্যক্তি মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে পৃথক লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। আবেদনে অভিযোগ করা হয়, অবৈধ এই কর্মকা-ে প্রশাসনের একটি অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহায়তা করছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, এর আগেও কয়েক দফা অভিযান পরিচালনা করা হলেও মূল হোতারা বরাবরের মতো ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছে। ফলে মাটি লুটে জড়িত চক্রটি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, মোটা অংকের সেলামীর বিনিময়ে কোনো বাধা ছাড়াই ট্রাক ও ডাম্পারে করে মাটি বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে একাধিক স্থানে একযোগে মাটি কাটা চলছে। প্রকাশ্যে ভারী যানবাহনে মাটি পরিবহন হলেও তা বন্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। এতে এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও ভূমি কাঠামো মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগী শফিকুল ইসলামসহ আবেদনকারীরা দ্রুত হাইকোর্টের আদেশ বাস্তবায়ন, নথি গায়েবের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং অবৈধ মাটি খনন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।