মাধবদী (নরসিংদী) সংবাদদাতা : মাধবদী পৌর শহরসহ মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কজুড়ে অবাধে চলাচল করছে রেজিস্ট্রেশন ও রোড পারমিটবিহীন ইজিবাইক, অটোরিকশা ও মিশুক। বছরের পর বছর ধরে এই যানগুলো প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ‘আবেদিত’ বা ‘অনটেস্ট’ লেখা প্লেট লাগিয়ে চলছে দেদারসে। প্রতিদিন পৌর শহরের প্রতিটি মোড়ে এসব তিন চাকার যান যত্রতত্র যাত্রী উঠানামা করছে। হঠাৎ ঘুরিয়ে নেওয়া, অতিরিক্ত গতি আর চালকদের অদক্ষতার কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এতে যাত্রীদের প্রাণহানি ও অঙ্গহানির ঘটনা দিন দিন বাড়ছে।
মাধবদী পৌরসভার সহকারী হিসাব রক্ষক কর্মকর্তা হাসান জানান, সর্বোশেষ ২০২২-২৩ লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে। ২০২৩-২৪ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য কোন লাইসেন্স নবায়ন বা নতুন কোন প্রক্রিয়া করা হয় নাই। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১৫০০ থেকে দুই হাজার ইজিবাইক, মিশুক ও রিকশা-ভ্যান লাইসেন্সের আওতায় এসেছিলো। প্রকারভেদে প্রতিটি গাড়ির ফি নির্ধারণ করা হয়েছিলো ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা আবার কোন কোন ক্ষেত্রে রিক্সার ৩০০ টাকা। নতুন অর্থবছরের জন্য এখনও লাইসেন্স কার্যক্রম শুরু হয়নি। সরকার পরিবর্তনের পর পৌরসভায় নতুন প্রশাসক কাজ করছেন। আগে মাধবদী পৌরশহরে শুধু মাত্র আমাদের লাইসেন্স প্রদান করা নির্দিষ্ট ইজিবাইক ও অটোরিক্সাগুলো চলাচল করতো তাতে শহরে যানজট কম সৃস্টি হতো আর এখন মাধবদী পৌরশহরের আশপাশের ইউনিয়ন, গ্রাম-গঞ্জ থেকে অসংখ্য ইজিবাইক, অটোরিক্সা শহরে প্রবেশ করে চলাচল করছে তাতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
এ ব্যাপারে সুজন- সুশাসনের জন্য নাগরিক এর মাধবদী শাখার সভাপতি ও মাধবদী পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র মোঃ মকবুল হোসেন বলেন, পৌরসভার চেয়ে ইউনিয়ন পর্যায়ে এই যানবাহনের সংখ্যা অনেক বেশি। পৌর এলাকায় কোনো ধরনের স্ট্যান্ড নেই, আবার চালক-মালিকদের জন্যও তেমন কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই। এজন্য অনেকেই রেজিস্ট্রেশন করতে আগ্রহ দেখান না। যদি কর্তৃপক্ষ স্ট্যান্ড, ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে তবে চালক-মালিকরা অবশ্যই রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আসতে আগ্রহী হবেন।
সচেতন মহল মনে করছে, উপজেলা ও পৌর প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। অবৈধভাবে চলাচলকারী যানবাহনগুলোকে নির্দিষ্ট নিয়মে নিবন্ধনের আওতায় এনে ন্যূনতম প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে দুর্ঘটনা যেমন কমবে, তেমনি নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থাও নিশ্চিত হবে।