শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) : শাহজাদপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে এখন সরিষা ফুলের সমারোহ । আর এ সুযোগে সরিষা ক্ষেতের পাশে বাক্স স্থাপন করে মধু চাষে ব্যস্ত হয়ে পরেছে মৌ চাষীরা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ফসলের মাঠ ঘতরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

এ বছর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ১৭ হাজার হেক্টর বিভিন্ন ফসলি জমিতে সরিষার আবাদ করা হয়েছে। এসব জমিতে সরিষার ফুল ফুটেছে আরো তিন সপ্তাহ আগেই। এই মৌসুমে সরিষা ক্ষেতের পাশে পোষা মৌমাছি দিয়ে শত শত বাক্স স্থাপন করে মধু সংগ্রহ করছেন মৌ চাষীরা। ওই সব বাক্স থেকে পোষা মৌমাছিগুলো উড়ে গিয়ে মধু সংগ্রহের জন্য ঘতরে বেড়াচ্ছে সরিষার হলুদ ফুলে। মৌ চাষীরা সাধারণত পছন্দের একটি সরিষা ক্ষেতের পাশে খোলা জায়গায় চাক ভরা বাক্স ফেলে রাখেন। তাতে একেকটি বাক্সে মোম দিয়ে তৈরি ছয় থেকে সাতটি মৌচাকের ফ্রেম থাকে। আর তার ভেতর রাখা হয় একটি রাণী মৌমাছি। রাণী মৌমাছির কারণে ওই বাক্সে মৌমাছিরা আসতে থাকে। মৌমাছিরা ফুল থেকে মধু এনে বাক্সের ভেতরের চাকে জমা করে। আর এই চাক থেকেই মধু সংগ্রহ করে থাকে চাষিরা। প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৩ টা পর্যন্ত মৌ-চাষিরা এসব মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করে থাকেন।

উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের কায়েমপুর গ্রামে, পৌরসভার বাড়াবিল উত্তরপাড়া, নরিনা ইউনিয়নের পাড়কোলা, পোরজনা ইউনিয়নের কাদাই ও জুগ্নীদহ উত্তরপাড়া, জুগ্নীদহ ঈদগাঁ মাঠে গিয়ে দেখা যায়, সরিষা ক্ষেতের পাশে মৌ বাক্স স্থাপন করে মধু আহরণে সবাই ব্যস্ত। কেউ বাক্স থেকে মধু বের করছেন, আবার কেউ বাক্স ঠিক করে দিচ্ছেন, কেউবা ড্রামে মধু ভরছেন। ক্রেতারা এসে মধু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। প্রতি কেজি মধু ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছেন।

পাবনার সাথিয়া থেকে আসা মধু ব্যবসায়ী শাহজাহান বেপারী বলেন- মৌ বাক্সে উৎপাদিত মধু ও প্রাকৃতিকভাবে প্রাপ্ত মধুর গুনাগুণ একই। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কথা বিবেচনা করলে মৌ বাক্সের মধুই ভালো। কারণ মেশিনের মাধ্যমে মধু নিষ্কাশন করা হয়। মধুর মান ভালো হওয়ায় এর কদর সারাদেশে রয়েছে।