চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা: বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, ‘ছাত্র সংসদ নির্বাচনের প্রভাব জাতীয় রাজনীতিতে পড়ুক, ব্যক্তিগতভাবে আমি চাই-না। তবে বাংলাদেশের বাস্তবতায় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের প্রভাব জাতীয় রাজনীতিতে পড়ে বা আগামীতেও পড়বে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা চাই জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি থাকুক। এজন্য গণভোটই বেশি যুক্তিযুক্ত।’ গত বুধবার রাতে জেলা শিবিরের আয়োজনে একটি রেস্টুরেন্টে স্থানীয় ছাত্র শিবিরের পাঠচক্র সদস্যদের নিয়ে মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের উদ্দেশে এ সব কথা বলেন তিনি।
শিবির সভাপতি বলেন, ‘আগামী জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন করে কেউ ফ্যাসিস্ট হওয়ার মানসিকতা পোষণ করলে তারা এই প্রজন্মের কাছে প্রত্যাক্ষিত হবে।’ তিনি বলেন, ‘আগামীতে যারা নির্বাচনে অংশ নিতে চান তারা জুলাই আন্দোলনে শহীদ-গাজীদের আকাক্সক্ষাকে প্রধান্য দিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিলে ইসলামী ছাত্রশিবির তাদের পাশে থাকবে।’
শিবির সভাপতি বলেন, ‘আগের ধারার ছাত্র রাজনীতি পরিবর্তিত হয়ে গুণগতভাবে রাষ্ট্রের জন্য ভবিষ্যত নেতৃত্ব তৈরির কাজ করবে, ছাত্র রাজনীতি হবে সেবামূলক, ছাত্র রাজনীতি হবে শিক্ষাবান্ধব। ’ইসলামী ছাত্রশিবির এখন বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় ছাত্র সংগঠনের পরিণত হয়েছে।
এটা ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়েই শুরু হয়েছে, বিষয়টা এমন নয়। ১৯৭৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠার লগ্ন থেকেই ইসলামী ছাত্রশিবির একটি নির্দিষ্ট আদর্শ ও লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে আসছে। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো সমাজের ছাত্রদের মাঝে ইসলামের আদর্শ পৌঁছে দেওয়া, তাদের মধ্যে আদর্শিক চেতনা সৃষ্টি করা এবং তাদেরকে সৎ, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। তার ধারাবাহিকতায় আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে ইসলামী ছাত্রশিবির।
এই পথে কাজ করতে গিয়ে আমাদের ২৩৪ জন ভাই শাহাদাত বরণ করেছেন, শত শত ভাই গুম হয়েছেন। এই অঞ্চলেরই শহীদ সোহানের চোখ উপড়ে খুন করা হয়েছে। ঝিনাইদহ- চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলকে গুম ও খুনের অভয়ারণ্যে পরিণত করা হয়েছিল। এখনো পর্যন্ত আমাদের সাতজন ভাই গুম আছেন। বাংলাদেশের প্রায় প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই আমাদের ভাইদের রক্ত ঝরেছে। আমাদের অপরাধ ছিল একটাই আমরা এই সমাজের ছাত্রদের সৎ, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু কিছু আধিপত্যবাদী শক্তির প্রভাবে বা তাদের প্রেসক্রিপশনে কিছু রাজনৈতিক দল এই দেশের দেশপ্রেমিক তরুণদের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালিয়েছে, হত্যা করেছে।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল, বাংলাদেশ ছাত্র শিবির কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও যশোর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক গোলাম জাকারিয়া প্রমুখ। মধ্যে উপস্থিত ছিলেন
চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি রাজীব হাসান কচি, সাধারণ সম্পাদক বিপুল আশরাফ, জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মানিক আকবর, প্রথম আলোর চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি শাহ আলম সনি, এটিএন বাংলা এটিএন নিউজের জেলা প্রতিনিধি রফিক রহমান, যমুনা টিভির জেলা প্রতিনিধি জিসান আহমেদ, ডিবিসি’র জেলা প্রতিনিধি কামরুজ্জামান সেলিম, সময় টিভির জেলা প্রতিনিধি মাহফুজ মামুনও বাংলাদেশ প্রতিদিনের জেলা প্রতিনিধি জামান আখতার।
প্রতিনিধি সমাবেশ
মেহেরপুর জেলা ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে উপশাখা প্রতিনিধি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রাতে দাওয়াতি ট্রাস্ট জামে মসজিদে সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের মেহেরপুর জেলা শাখার সভাপতি মোঃ আব্দুস সালাম।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মদ জাহিদুর ইসলাম, অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর - মুজিবনগর ১ আসনের সংসদ সদস্য জামায়াতে মনোনীত প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা তাজ উদ্দিন খান, কেন্দ্র ইসলামী ছাত্রশিবিরের শিক্ষা ও ব্যবসায়িক সম্পাদক গোলাম জাকারিয়া, কেন্দ্রীয় গবেষণা সম্পাদক মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, মেহেরপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও সাবেক জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোঃ ইকবাল হুসাইন, সদর উপজেলা আমীর মাওলানা সোহেল রানা, মেহেরপুর পৌর আমীর ও সাবেক জেলা সভাপতি সোহেল রানা (ডলার), অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মেহেরপুর ইসলামী ছাত্রশিবিরের জেলা সেক্রেটারি সাইদুর রহমান।