পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার হরিদেবপুর খেয়াঘাটে প্রকাশ্যে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুর্বৃত্ত ও সন্ত্রাসীদের হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পরপর হুমকি আর ভয়ভীতির কারণে ঘাটের ইজারাদার শিবু লাল দাস এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) রাতে গলাচিপা উপজেলার হরিদেবপুর খেয়াঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার স্পষ্ট সিসি টিভির ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ প্রশাসনের কাছে ভাইরাল হয়ে গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে একদল দুর্বৃত্ত ঘাটের ভাড়া উত্তোলন কাউন্টার-সংশ্লিষ্টদের ওপর হামলা চালায়। সে সময় তারা ক্যাশবাক্স খুলে টাকাপয়সা লুট করে।

অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা ঘাটের বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর করে এবং নগদ টাকা ও মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় খেয়াঘাটে অবস্থানরত কর্মচারীদের বেধড়ক মারধর ও অস্ত্র দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয় সন্ত্রাসীরা। দুদিন আগে ওই ঘটনা ঘটলেও এখনও এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই নিরাপত্তার অভাবে এলাকা ছেড়েছেন।

ভুক্তভোগীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ঘাট এলাকায় চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। সর্বশেষ দাবি না মানায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে জেলা পরিষদ প্রশাসক স্নেহাংশু সরকার কুট্টি জানান, বিষয়টি প্রশাসনের সব মহলকে জানানো হয়েছে। তিনি জানান, বৈধ ইজারাদার শিবু দাসকে ঘাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য প্রশাসনকে বলা হয়েছে।

পটুয়াখালী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সাজ্জাদুল ইসলাম সজল বলেন, আমরা আবেদন পেলে ঘাট দখলের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে মামলা নিতে প্রস্তুত রয়েছি।

এ বিষয়ে ইজারাদার শিবু লাল দাস বলেন, থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। পুলিশ সুপারকেও লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হলে ঘাট মুক্ত হবে বলে তিনি জানান। শিবু বলেন, 'তালেব আকনের নেতৃত্বে খেয়াঘাট দখল করা হয়েছে।' সূত্র: ইউএনবি।