নৌপরিবহন উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাখাওয়াত হোসেনের দেওয়া আশ্বাসের বাস্তব অগ্রগতি না হওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরে আবারও অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। আগামী রোববার সকাল ৮টা থেকে এ কর্মসূচি শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে।
গতকাল শনিবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবীর এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে নৌ উপদেষ্টার সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে চার দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছেÑনিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিল, বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীদের বদলি আদেশ প্রত্যাহার করে আগের পদে পুনর্বহাল, আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে মামলা ও হয়রানি বন্ধ এবং চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যানকে প্রত্যাহার।
সংগ্রাম পরিষদের নেতারা জানান, বৈঠকে নৌ উপদেষ্টা বদলি ও মামলা সংক্রান্ত দাবি নৌ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। অন্য দুই দাবি সরকারের উচ্চ পর্যায়ে উপস্থাপনের কথাও জানান তিনি।
হুমায়ুন কবীর বলেন, উপদেষ্টার আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে ৪৮ ঘণ্টার জন্য কর্মবিরতি স্থগিত করা হয়েছিল। কিন্তু এখনো দাবিগুলোর বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে শ্রমিক-কর্মচারীরা পুনরায় অনির্দিষ্টকালের কর্মসূচিতে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
বৈঠকের পর নৌ উপদেষ্টা জানান, শ্রমিকদের দাবিগুলো সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা হবে। তবে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি বন্ধ করা সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে বন্দরের কার্যক্রম সচল রাখতে বাধা দেওয়া হলে সরকার কঠোর অবস্থানে যাবে বলে সতর্ক করেন।
অন্যদিকে, বৈঠকের পর সংগ্রাম পরিষদের নেতারা ঘোষণা দিয়েছিলেন, সরকারের পক্ষ থেকে দাবিগুলো মেনে নেওয়ার সুস্পষ্ট ঘোষণা না এলে রোববার থেকে আবার কর্মবিরতি শুরু করা হবে।
এদিকে, বৈঠকের দিন রাতেই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ১৫ জন শ্রমিক-কর্মচারীর বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা এবং তাদের সম্পদের তথ্য যাচাইয়ের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনকে চিঠি দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ।
এর আগে গত ৩১ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করেন শ্রমিকরা। পরবর্তীতে ৩ ফেব্রুয়ারি ২৪ ঘণ্টার কর্মসূচি পালন শেষে ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু হলে বন্দরের কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ে।
চলমান পরিস্থিতির মধ্যে গত বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে গেলে নৌ উপদেষ্টা শ্রমিকদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন। শ্রমিকরা বন্দর ভবনে প্রবেশের পথে তার গাড়ি আটকে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে বন্দর ভবনে প্রবেশ করে উপদেষ্টা বন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শ্রমিক প্রতিনিধি এবং বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেন।